গাজা ইস্যুতে ফ্রান্সের অবস্থানকে নির্লজ্জ ও দ্বিচারিতা বললেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

তেহরান, ১৩ আগস্ট – মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার দাবিতে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক অবস্থানকে নির্লজ্জ ও দ্বিচারিতা হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ফ্রান্সের অব্যাহত সমর্থন এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে তাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি দেশটির নৈতিক অবস্থান নিয়ে এই প্রশ্ন তোলেন।
সম্প্রতি ফ্রান্সসহ ২৬টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। এর প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি বলেন, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে বিশ্বের অন্য দেশগুলোকে জ্ঞান দেওয়ার আগে ফ্রান্সের উচিত নিজেদের ভূমিকা পর্যালোচনা করা।
তিনি ফ্রান্সের এই ধরনের আচরণকে বিব্রতকর দ্বিচারিতা বলে মন্তব্য করেন। আরাগচি আরও বলেন, গাজায় ইসরায়েলের পরিচালিত গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডে ফ্রান্সের সমর্থন এবং ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক আগ্রাসনে তাদের ভূমিকা দেশটির কথিত নৈতিক ভিত্তিকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
মূলত ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির পর এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান। ওই বিবৃতিতে ইরানকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ এবং তথাকথিত বিচারবহির্ভূতভাবে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির আহ্বান জানানো হয়েছিল। তেহরানের অভিযোগ, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের রক্ষক হিসেবে নিজেদের দাবি করলেও গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখেও ফ্রান্স তাদের সমর্থন বজায় রেখেছে।
একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা আগ্রাসনের সময়ও ফ্রান্সের অবস্থান তেহরান বিরোধী ছিল। এর আগেও ইরান দাবি করেছে যে, আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অন্যদের শিক্ষা দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই যদি তারা গাজার পরিস্থিতির জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত না করে।
এস এম/ ১৩ আগস্ট ২০২৬









