সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবে স্পেনে ঢুকতে গিয়ে ৯০ অভিবাসীর মৃত্যু

মাদ্রিদ, ১২ আগস্ট – সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ক্ষুদ্র গুজব কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে, তার এক মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউটার ঘটনা। গত মাসে মরক্কো থেকে সাঁতরে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টাকালে পানিতে ডুবে অন্তত ৯০ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।
এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মূলে ছিল ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া তথ্য। গুজবটি ছিল এমন যে, যদি কেউ সমুদ্রপথে সাঁতরে সিউটায় পৌঁছাতে পারেন, তবে স্পেন সরকার আইনের শিথিলতা প্রদর্শন করে তাদের বসবাসের অনুমতি প্রদান করবে।
গত ৩০ জুলাইয়ের গণ-অনুপ্রবেশের ঠিক দুদিন আগে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এল ফারো ডি সিউটা ভেজা পোশাকে দুই তরুণীর হাসিমুখের একটি ভিডিও প্রচার করে। আরবি ভাষায় প্রকাশিত সেই ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে অভিবাসীদের মাঝে এই ধারণা তৈরি হয় যে, সাঁতরে স্পেনে ঢোকা এবং সেখানে অবস্থান করা অত্যন্ত সহজ।
তদন্তে দেখা গেছে, স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি পুরনো রায়কে বিকৃত করে এই গুজব পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছিল। আদালতের ওই রায়ে বলা হয়েছিল, সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের যথাযথ আইনি পর্যালোচনা ছাড়া সরাসরি বিতাড়িত করা যাবে না। তবে স্বার্থান্বেষী মহল একে স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার হিসেবে অপপ্রচার চালায়।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ জর্গেন কার্লিংয়ের মতে, আদালতের আংশিক সত্য ভাষ্যই সাধারণ মানুষের কাছে এই গুজবটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছিল। এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে মানবপাচারকারী চক্রগুলো। দ্য পাথ টু সিউটা নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে তারা বিভিন্ন ম্যাপ ও দিকনির্দেশনা শেয়ার করতে শুরু করে।
মরক্কোর একজন মানবাধিকার কর্মকর্তার একাউন্টসহ অন্তত ২১৫টি ফেসবুক পেজ থেকে একই ধরনের ভুয়া দাবি প্রচার করা হয়। ভুক্তভোগীদের একজন আশরাফ বেন আহমেদ জানান, ইনস্টাগ্রামের ভিডিওগুলো দেখে প্রলুব্ধ হয়ে তিনি ১২ কিলোমিটার পথ সাঁতরে সিউটায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন।
তিনি জানান, ভিডিওগুলোতে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে পৌঁছাতে পারলে সহায়তা পাওয়া যাবে এবং কাউকে ফেরত পাঠানো হবে না। এদিকে মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এই সংক্রান্ত ভুয়া পোস্টগুলো সরিয়ে ফেলার কাজ করছে। তবে গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এখনো অনেক পেজ সক্রিয় রয়েছে যা নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তাদের স্বজনরা ব্যবহার করছেন।
এস এম/ ১২ আগস্ট ২০২৬





