সিলেট

সিলেটে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত

সিলেট, ১০ আগস্ট – সিলেট অঞ্চলে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শ্রাবণের ভ্যাপসা গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহর ও গ্রামাঞ্চলের মানুষ। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, গ্যাসের অভাবে বড় তিনটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

সিলেট মহানগরীর বাসিন্দাদের অভিযোগ, এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে কয়েক ঘণ্টা থাকে না। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে কখন বিদ্যুৎ আসবে আর কখন যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রিজন জানান, বিদ্যুৎ যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় আর দেখা মেলে না। ফিরলেও আধঘণ্টার বেশি থাকে না। একই চিত্র জিন্দাবাজারসহ বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে। এতে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও চাকুরিজীবীরা।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সন্ধ্যায় পিকআওয়ারে সিলেটে ১৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল মাত্র ১২০ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৩৫ মেগাওয়াট। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র আরও ভয়াবহ বলে দাবি সাধারণ গ্রাহকদের।

সহকারী প্রকৌশলী মো. জারজিসুর রহমান রনি জানান, প্রাপ্ত বিদ্যুৎ সুষমভাবে বণ্টনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির সমাধান কবে হবে তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি তিনি।

সিলেট পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার মিলিয়ে পিডিবির চাহিদা ২৫২ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া গেছে ১৯৯ মেগাওয়াট।

এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার অবস্থা আরও শোচনীয়। সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর জেনারেল ম্যানেজার পঙ্কজ চৌধুরী জানান, ৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে তারা পাচ্ছেন মাত্র ২৩ মেগাওয়াট। ফলে কানাইঘাট, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাটের মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।

অন্যদিকে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ এর অধীনে থাকা গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার এলাকায় সংকট থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, ফেঞ্চুগঞ্জ, বিবিয়ানা ও শাহজিবাজারের তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র গ্যাসের অভাবে বন্ধ থাকায় এই লোডশেডিং প্রকট আকার ধারণ করেছে। কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

এনএন/ ১০ আগস্ট ২০২৬


Back to top button