দক্ষিণ আমেরিকা

লুলাকে ‘চোর’ বলে মন্তব্য মিলেইয়ের: আর্জেন্টিনা থেকে রাষ্ট্রদূত ফিরিয়ে আনছে ব্রাজিল

ব্রাসিলিয়া, ৫ আগস্ট – ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্কের নজিরবিহীন অবনতি ঘটেছে। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা ডি সিলভাকে লক্ষ্য করে বারবার আপত্তিকর মন্তব্য করায় বুয়েনস আইরেসে নিজেদের কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রাজিলিয়া।

ব্রাজিলীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মিলেই সম্প্রতি একাধিক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট লুলাকে চোর বলে অভিহিত করেছেন। দক্ষিণ আমেরিকার দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার যে চেষ্টা চলছিল, এই কটু মন্তব্যের ফলে তাতে বড় ধরনের আঘাত লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হাভিয়ের মিলেই আর্জেন্টিনার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। চলতি বছরের জুলাই মাসে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে লুলাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার পর ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত হুলিও বিতেলিকে বুয়েনস আইরেস থেকে প্রত্যাহার করে নেয় ব্রাজিলিয়া।

এরপর থেকে একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের মাধ্যমে সেখানে কাজ চালিয়ে আসছিল দেশটি। তবে ব্রাজিলীয় কর্মকর্তারা এখন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত মিলেই তার আক্রমণাত্মক বক্তব্য বন্ধ না করবেন, ততক্ষণ বুয়েনস আইরেসে কোনো স্থায়ী রাষ্ট্রদূত পাঠানো হবে না।

সম্প্রতি ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারোর ছেলে ফ্ল্যাভিও বলসোনারোর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন মিলেই। সেখানে তিনি কেবল লুলার সমালোচনাই করেননি, বরং ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরেসকেও কটু ভাষায় আক্রমণ করেন।

মূলত ব্যর্থ অভ্যুত্থান মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বলসোনারোর সাথে দেখা করার অনুমতি না পাওয়ায় তিনি এমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা সরাসরি এই বিতর্কে কোনো মন্তব্য না করলেও দেশটির পররাষ্ট্র বিভাগ কূটনৈতিক পদক্ষেপ জোরদার করেছে।

এদিকে আঞ্চলিক এই উত্তেজনার প্রভাব ব্রাজিলের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও বর্তমানে ব্রাজিলের এক ধরনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশি হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় থাকা ব্রাজিলের ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে বুয়েনস আইরেস ও ওয়াশিংটনের সাথে দূরত্বের বিষয়টি এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এস এম/ ৫ আগস্ট ২০২৬


Back to top button