৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম ব্যক্তিগত পদক নিশ্চিত করলেন জিন্নাত

নাগোয়া, ২২ সেপ্টেম্বর – জাপানের বিরুদ্ধে কাবাডিতে হেরে যখন পদক হাতছাড়ার হতাশায় পুড়ছিল বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল, ঠিক তখনই উশু থেকে এল এক অভাবনীয় আনন্দের খবর। নাগোয়া এশিয়ান গেমসে নারী উশুর ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে কোনো ম্যাচ না খেলে সরাসরি সেমিফাইনালে উঠে পদক নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশের অ্যাথলেট জিন্নাত আক্তার।
১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসে বক্সার মোশাররফ হোসেনের ব্রোঞ্জ জয়ের ঠিক ৪০ বছর পর, এটিই ব্যক্তিগত কোনো ইভেন্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় এশিয়াড পদক।
রিংয়ে না নেমেই কীভাবে এল জয়?
জিন্নাতের এই নাটকীয় ও ঐতিহাসিক পদক জয়ের পেছনে রয়েছে এক বিরল ঘটনা। নকআউটভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় কীভাবে নিশ্চিত হলো পদক:
বাই পেয়ে কোয়ার্টারে পদার্পণ: নারী ৫২ কেজি বিভাগে ১৫ জন প্রতিযোগীর মধ্যে একমাত্র জিন্নাতই প্রথম রাউন্ডে (প্রি-কোয়ার্টার) ‘বাই’ পেয়ে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন।
প্রতিপক্ষের অযোগ্যতা (Overweight): কোয়ার্টার ফাইনালে তার মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেন্তিনা থারিসার। কিন্তু নির্ধারিত ওজনের চেয়ে বেশি (ওভার ওয়েট) হওয়ায় তিনি ডিসকোয়ালিফাইড বা অযোগ্য ঘোষিত হন।
সরাসরি সেমিফাইনাল ও ব্রোঞ্জ: কোন লড়াই ছাড়াই সেমিফাইনালে পৌঁছে যান জিন্নাত। উশুর নিয়ম অনুযায়ী সেমিফাইনালে হারা উভয় খেলোয়াড়ই ব্রোঞ্জ পদক পান।
অফিসিয়াল বার্তা: বাংলাদেশ উশু অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দিলদার হাসান দিলু ও এশিয়ান গেমসের শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে, প্রতিযোগী সংখ্যা ১৫ জন হওয়ায় সেমিফাইনালে ওঠার সাথেই জিন্নাতের অন্তত ব্রোঞ্জ পদক জয় সুনিশ্চিত হয়েছে।
৪০ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান
১৯৭৮ সাল থেকে এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের ব্যক্তিগত পদকের ঝুলি দীর্ঘ দিন ধরে শুষ্ক ছিল। পরবর্তীতে কাবাডি ও ক্রিকেটে দলগত পদক এলেও মোশাররফের পর ব্যক্তিগত ডিসিপ্লিনে আর কোনো পদক দেখেনি দেশ। এবার সম্পূর্ণ ভাগ্যের সঙ্গ ও নিয়মের সুবিধায় জিন্নাত আক্তারের মাধ্যমে সেই চার দশকের খরা কাটল লাল-সবুজের পতাকার।
এনএন/ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬







