প্রাপ্তবয়স্ক নারীর বিয়ে ও ধর্মান্তরের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা যাবে না: এলাহাবাদ হাইকোর্ট

নয়াদিল্লি, ৩ আগস্ট – প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, বিবাহ এবং ধর্মান্তরের অধিকার রক্ষায় যুগান্তকারী এক রায় প্রদান করেছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী যদি স্বেচ্ছায় অন্য ধর্ম গ্রহণ করে নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে বিয়ে করতে চান, তবে তার বাবা বা অন্য কোনো ব্যক্তি তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।
বিচারপতি সন্দীপ জৈন তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন যে, প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নিজস্ব বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্ম পালন, জীবনসঙ্গী নির্বাচন এবং পছন্দমতো স্থানে বসবাস করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে কোনো প্রকার বাধা দেওয়া সংবিধান প্রদত্ত মর্যাদা, গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারের পরিপন্থি বলে তিনি জানান।
আদালত এই পর্যবেক্ষণ দেন দুই প্রাপ্তবয়স্ক বোনের করা একটি আবেদনের শুনানির সময়। ২০ বছর বয়সী দিব্যা ভাটিয়া এবং ৩৫ বছর বয়সী অংশু ভাটিয়া আদালতে অভিযোগ করেন যে, হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ এবং পছন্দের মানুষকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাদের বাবা তাদের বেআইনিভাবে আটকে রেখেছেন। এই দুই বোনের অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত তাদের আগামী ৬ আগস্ট আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। গত ৩১ জুলাই এই আদেশ প্রদান করা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত তার আদেশে বলেছেন যে আবেদনকারী দুই নারীই প্রাপ্তবয়স্ক। ফলে নিজেদের ধর্ম, বিবাহ এবং ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত সক্ষমতা তাদের রয়েছে। আইনগতভাবে তাদের এই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার সুযোগ কারও নেই।
এনএন/ ৩ আগস্ট ২০২৬









