সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ ও তীব্র কটাক্ষের পর কিম জং উনের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

পিয়ং ইয়াং, ০৩ অক্টোবর – সীমানা এলাকায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরীয় সেনা আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনার মাঝেই আবারও নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। সিউলের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবিকে পিয়ংইয়ংয়ের প্রকাশ্যে কটাক্ষ ও প্রত্যাখ্যানের মাত্র একদিনের মাথায় এই নজিরবিহীন সামরিক প্রতিক্রিয়া জানালেন কিম জং উন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় বন্দরনগরী ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।
৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ব সাগরে আঘাত!
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (JCS) জানিয়েছে, ওনসান থেকে উৎক্ষেপণ করা ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশপথে প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের (৪৩৫ মাইল) বেশি পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ব সাগরে (জাপান সাগর) পতিত হয়।
- উৎক্ষেপণস্থল: বন্দরনগরী ওনসান (Wonsan)
- অতিক্রম করা দূরত্ব: ৭০০+ কিলোমিটার (৪৩৫ মাইল)
- জাপানের জরুরি বার্তা: টোকিও এবং সিউল যৌথভাবে উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জাপানের কোস্টগার্ড ও
- প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে সমুদ্রসীমায় জরুরি সতর্কতা জারি করে।
সিউলে জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তরের জরুরি বৈঠক ও ত্রিপক্ষীয় নজরদারি
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরপরই থমথমে পরিস্থিতি মূল্যায়নে তৎপর হয়ে উঠেছে সিউল, ওয়াশিংটন ও টোকিও।
- জরুরি বৈঠক: পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তর দ্রুত এক উচ্চপর্যায়ের আপদকালীন সভা আহ্বান করেছে।
- সামরিক হাই-অ্যালার্ট: আরও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আশঙ্কায় সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।
- তথ্য ভাগাভাগি: ওয়াশিংটন ও টোকিওর সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে রিয়েল-টাইম ডাটা আদান-প্রদান করছে সিউল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ড বিষয়টি পর্যালোচনার পর জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে প্রাথমিক বিচারে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা মার্কিন সেনা বা মিত্রদের ভূখণ্ডের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো সরাসরি হুমকি তৈরি করেনি।
ডিএমজেড-এ বিস্ফোরণ ও কিম ইয়ো জং-এর বিষোদ্গার: নেপথ্যের মূল কারণ
এই সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার মূল সূত্রপাত সামরিক সীমানা এলাকায় ঘটে যাওয়া এক রক্তক্ষয়ী ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে।
ঘটনা ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপট:
সেনা আহত: কোরীয় উপদ্বীপের ৪ কিলোমিটার প্রশস্ত সামরিক সীমানা এলাকার (DMZ) ভেতর গোয়েন্দা টহলকালে উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে ৩ জন দক্ষিণ কোরীয় সেনা মারাত্মকভাবে আহত হন।
ক্ষমা চাওয়ার দাবি: দক্ষিণ কোরিয়া ও জাতিসংঘ কমান্ডের তদন্তে উত্তর কোরিয়াকে সরাসরি দায়ী করে সিউল আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়।
কিম ইয়ো জং-এর কটাক্ষ: উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব ও কিম জং উনের শক্তিশালী বোন কিম ইয়ো জং সিউলের দাবির তোয়াক্কা না করে তা নিয়ে বিষোদ্গার ও প্রকাশ্যে তীব্র উপহাস করেন। তার ঠিক পরদিনই এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে নিজেদের অনমনীয় অবস্থান জানান দিল পিয়ংইয়ং।
এনএন/ ০৩ অক্টোবর ২০২৬







