বিশ্ববাজারে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ! পোশাক খাতে সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় বেড়ে ৩৯৩ কোটি ডলার

ঢাকা, ০৩ অক্টোবর – বিশ্ব অর্থনীতিতে নানা অনিশ্চয়তা ও টানা টানাপোড়েনের মাঝেও দুর্দান্ত সাফল্যের কথা শোনাল দেশের রপ্তানি খাত। প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পের হাত ধরে চলতি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ যত আয় করেছিল, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সেই আয় ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৩৯৩ কোটি (৩.৯৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডালারে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই আশাব্যঞ্জক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
এক নজরে রপ্তানির পরিসংখ্যান: পোশাক খাতের বড় ভূমিকা
প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকা সত্ত্বেও দেশীয় তৈরি পোশাক খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর ওপর ভর করেই মোট রপ্তানি আয়ে সুবাতাস বইছে।
এক মাসের চিত্র (সেপ্টেম্বর): এক বছরের ব্যবধানে সেপ্টেম্বর মাসে কেবল তৈরি পোশাক খাত থেকেই রপ্তানি আয় সাড়ে আট শতাংশ (৮.৫০%) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডালারে।
অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬.১০ শতাংশ বেড়ে ১০ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডালারে পৌঁছেছে।
প্রথম প্রান্তিকের সার্বিক আয়: ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬.৩৪ শতাংশ বেড়ে ১৩ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডালারে দাঁড়িয়েছে।
তবে আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে কিছুটা ভাটা
বার্ষিক হিসাবে (YoY) শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলেও মাসভিত্তিক (MoM) হিসাবে সেপ্টেম্বরের আয়ে কিছুটা পতন দেখা গেছে। ইপিবির তথ্য মতে, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি আয় কমেছে; শতকরা হিসাবে এই হ্রাসের হার ১১ দশমিক ১১ শতাংশ।
তবে বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক মৌসুমি ওঠানামা হিসেবেই দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। শিপমেন্টের নির্দিষ্ট তারিখ, ছুটির দিন এবং শিপিং শিডিউলের কারণে মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে এ ধরনের সামান্য তারতম্য হওয়াটা স্বাভাবিক।
বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত অবস্থান
রপ্তানি আয় কিছুটা কমলেও বিশ্ব বাজারে পণ্য রপ্তানিতে এখনও বাংলাদেশ নিজেদের শক্ত প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রেখেছে বলে উল্লেখ করেছেন ইপিবির কর্মকর্তারা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও তৈরি পোশাক খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি লাল-সবুজের অর্থনীতিকে বেশ স্বস্তি দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুণগত মান বজায় রাখা এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহের সক্ষমতাই বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের পোশাক খাতের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করছে।
এনএন, ০৩ অক্টোবর ২০২৬







