উত্তর আমেরিকা

উইঘুর শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের অভিযোগে ৪৩ চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ওয়াশিংটন, ২ আগস্ট – চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করার অভিযোগে আরও ৪৩টি চীনা প্রতিষ্ঠানের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ইলেকট্রনিকস, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি, খাদ্যপণ্য, ধাতু ও সৌরশক্তি খাতের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বহু প্রতিষ্ঠান মার্কিন বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন বাধার মুখে পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের এক সাম্প্রতিক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানের নাম উইঘুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট এন্টিটি লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই তালিকায় থাকা কোনও প্রতিষ্ঠানের তৈরি পণ্য সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়েছে এমন একটি আইনি ধারণা কার্যকর হয়।

ফলে এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা যাবে না, যদি না আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান স্পষ্ট প্রমাণ দিতে পারে যে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জোরপূর্বক শ্রমের কোনও ব্যবহার হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই প্রথম নতুন কোনও প্রতিষ্ঠান উইঘুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট তালিকায় যুক্ত হলো।

এর মাধ্যমে নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ১৮৭ তে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ সালে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর এটি একবারে সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ভিত্তিহীন একতরফা নিষেধাজ্ঞা বলে নিন্দা জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, দুই দেশের বাণিজ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে গঠনমূলক ভিডিও বৈঠকের মাত্র একদিন পরই যুক্তরাষ্ট্র এমন পদক্ষেপ নিয়েছে যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে। চীন জানিয়েছে, নিজেদের কোম্পানিগুলোর বৈধ স্বার্থ রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মার্কিন সরকারের তথ্যানুযায়ী, নতুন তালিকাভুক্ত চারটি প্রতিষ্ঠান জিনজিয়াং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে উইঘুর ও অন্যান্য নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়োগ বা স্থানান্তরের কাজে যুক্ত ছিল। বাকি ৪১টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা জিনজিয়াং অঞ্চল থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের চীনবিষয়ক বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান জন মুলেনার বলেন, আজকের এই পদক্ষেপ দাসশ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও জ্বালানি সংরক্ষণ ব্যাটারির উপকরণ প্রস্তুতকারী একাধিক কোম্পানি। এছাড়া টিবিইএ, তিয়ানশান অ্যালুমিনিয়াম গ্রুপ এবং শানডং গোল্ড মাইনিং এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও এই নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে।

এস এম/ ২ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language