ইরানের খেইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে মার্কিন সামরিক মহলে বাড়ছে উদ্বেগ

ওয়াশিংটন, ১ আগস্ট – ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরানের তৈরি খেইবার শেকান ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। তেহরানের এই সামরিক প্রযুক্তির সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন সামরিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে এই ক্ষেপণাস্ত্রটির বিশেষ কৌশলগত বৈশিষ্ট্যের কারণে পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে ইরান তাদের হামলার কৌশলে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে।
বিশেষ করে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে খেইবার শেকানসহ বিভিন্ন উন্নত ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি এই ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছে নিজের গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে।
প্রচলিত ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথ অনুসরণ করায় সেগুলো প্রতিহত করা সহজ হলেও খেইবার শেকানের ক্ষেত্রে বিষয়টি জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোরের ক্ষেপণাস্ত্র বহরে ২০২২ সালে যুক্ত হওয়া এই অস্ত্রটি মূলত কঠিন জ্বালানিচালিত।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে এর পাল্লা প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার বা তার বেশি। কঠিন জ্বালানি ব্যবহারের ফলে এটি তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে দ্রুত উৎক্ষেপণ করা যায় এবং দীর্ঘ সময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা সম্ভব হয়। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রু পক্ষকে হুট করে আঘাত করার সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট বা থাড সাধারণত রাডারের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ শনাক্ত করে সেটিকে মাঝপথে ধ্বংস করে। তবে খেইবার শেকান শেষ পর্যায়ে এসে ম্যানুভার বা দিক পরিবর্তন করতে পারায় এই সুরক্ষা কবচ ভেদ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এছাড়া ইরান ড্রোনের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানোয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এই সামরিক লড়াইয়ের পাশাপাশি ব্যয়ের বিষয়টিও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর নির্মাণ খরচ অত্যন্ত কম হলেও সেগুলো ধ্বংস করতে ব্যবহৃত মার্কিন ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
ফলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। এভাবেই খেইবার শেকান মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
এস এম/ ১ আগস্ট ২০২৬









