জাতীয়

গবেষণার উটপাখি জবাই ও অনিয়ম: ১৩৪ কোটির প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকা, ৩১ জুলাই – বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উটপাখি পালনের সম্ভাবনা যাচাই এবং গরু বা খাসির মাংসের বিকল্প খোঁজার উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি বৃহৎ গবেষণা প্রকল্প সংকটের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীনে প্রায় ১৩৪ কোটি টাকার এই প্রকল্পের আওতায় আফ্রিকা থেকে ২২টি উটপাখি আনা হয়েছিল।

তবে বর্তমানে এর মধ্যে মাত্র চারটি উটপাখি অবশিষ্ট রয়েছে বলে জানা গেছে। বিএলআরআইয়ের তথ্য অনুযায়ী গবেষণার উদ্দেশ্যে আনা এই ২২টি পাখির মধ্যে ১৫টিই জবাই করা হয়েছে এবং তিনটি অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। সংরক্ষিত শেডে বর্তমানে চারটির কথা বলা হলেও বাস্তবে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে দুটির বেশি পাখির দেখা পাওয়া যাচ্ছে না।

২০১৯ থেকে ২০ অর্থবছরে বিএলআরআই পোলট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্প নামে এই উদ্যোগটি গ্রহণ করে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল দেশীয় পোলট্রি প্রজাতির উন্নয়ন ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি উটপাখিকে দেশের আবহাওয়ায় মানিয়ে নেয়ার সুযোগ তৈরি করা।

প্রকল্পের পরিচালক ড. সাজেদুল করিম সরকার শুরুতে জানিয়েছিলেন একটি প্রাপ্তবয়স্ক উটপাখি থেকে ১০০ থেকে ১৫০ কেজি মাংস পাওয়া সম্ভব যা দেশীয় গরুর মাংসের বিকল্প হতে পারে। তবে ছয় বছর পর এই প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন গবেষণার নামে এত বিপুল সংখ্যক প্রাণী জবাই করা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান জানান যে উটপাখি আমাদের দেশের প্রাণী না হওয়ায় এর প্রজনন ও পালন কিছুটা কঠিন। তিনি গবেষণার প্রয়োজনে প্রাণী জবাইয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক উটপাখি জবাই করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান মাংসের গুণগত মান পরীক্ষার জন্য এটি করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন এই প্রকল্পের অনিয়ম তদন্ত করতে ইতোমধ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্তের প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ করা হবে।

এস এম/ ৩১ জুলাই ২০২৬


Back to top button