টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া: পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় ফাহিমের পদযাত্রা সমাপ্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৩০ জুলাই – পরিবেশ সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলার বার্তা নিয়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ১ হাজার ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংস্কৃতিকর্মী ফাহিম মুনতাসীর।
গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে পৌঁছানোর মাধ্যমে তিনি তার এই দীর্ঘ ২১ দিনের পদযাত্রা সফলভাবে শেষ করেন। সেখানে পৌঁছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে তিনি এই অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। গত ১০ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফের শাপলা জিরো পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন ফাহিম।
শুরুতে তার সঙ্গে দুজন সহযাত্রী থাকলেও ফেনীতে পৌঁছে তারা যাত্রা স্থগিত করেন। এরপর থেকে পুরো পথ ফাহিম একাই পাড়ি দিয়েছেন। এই দীর্ঘ পথচলার মাঝে বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের গাছ লাগানো ও হাঁটার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন করেছেন তিনি।
পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মধ্যপাড়ার বাসিন্দা ফাহিম মুনতাসীর পেশায় একজন কলেজ শিক্ষক। তিনি স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন সোনালী সকাল এর সভাপতি এবং রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির যুব প্রধান হিসেবে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।
দীর্ঘ যাত্রা শেষে ফাহিম বলেন, এটি আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। স্বপ্নপূরণের এই মুহূর্তে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমার এই পদযাত্রা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে যদি সামান্য কিছু মানুষও পরিবেশ রক্ষা ও নিয়মিত হাঁটার প্রতি আগ্রহী হন, তবেই আমার পরিশ্রম সার্থক হবে।
তিনি আরও জানান, সুস্থ থাকার জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার কদম হাঁটা প্রয়োজন। যান্ত্রিক যানবাহনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা আমাদের নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এছাড়া হাঁটার অভ্যাস বাড়লে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমবে, যা কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অনিয়ন্ত্রিত গাছ কাটা ও জলাশয় ভরাট বন্ধের পাশাপাশি বন্যপ্রাণী রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এস এম/ ৩০ জুলাই ২০২৬









