তাইওয়ানকে অবরুদ্ধ করতে চীনের নতুন সামুদ্রিক মহড়া ও অজগর কৌশল

বেইজিং, ২৯ জুলাই – স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের নতুন সামুদ্রিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে কোস্টগার্ড ও বেসামরিক নৌযানের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে বেইজিং।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো তাইওয়ানকে বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি অবস্থানগত অবরোধ তৈরি করা। চীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন ও জুলাই মাসে ওই অঞ্চলে বিশেষ সামুদ্রিক আইন প্রয়োগকারী অভিযান এবং নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হয়েছে।
সাধারণত চীন ১৮০ কিলোমিটার প্রশস্ত তাইওয়ান প্রণালীতে টহল দিলেও এবার দ্বীপটির পূর্বদিকে সমন্বিতভাবে তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে যা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ন্যাশনাল ব্যুরো অব এশিয়ান রিসার্চ এর ফেলো কে ট্রিস্টান টাং জানিয়েছেন, বেইজিং এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় জলসীমায় তাদের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব জাহির করার চেষ্টা করছে।
এর ফলে দ্বীপটিকে সব দিক থেকে ঘিরে ফেলা সম্ভব হবে। অন্যদিকে তাইপে অভিযোগ করেছে যে, চীনা কর্তৃপক্ষ ওই এলাকায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের উৎস ও গন্তব্য নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির মেরিটাইম ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্ট এর পরিচালক রে পাওয়েল এই প্রক্রিয়াকে চীনের অজগরের মতো চেপে ধরার কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি জানান, চীন ধাপে ধাপে চাপ বাড়িয়ে তাইওয়ানের জ্বালানি সরবরাহসহ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ বন্ধ করে দিতে চায়। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত জুনে তাইওয়ান সংলগ্ন সাগরে অন্তত ৫৫টি চীনা জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। চীনের এই আগ্রাসী আচরণের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স।
এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো জানিয়েছে যে, এই একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চীনের এই কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
তবে ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বেইজিং এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। যদিও বেইজিং এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই টহল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এস এম/ ২৯ জুলাই ২০২৬









