ইন্টারসেপ্টর মিসাইল সংকটে সৌদি আরব: মিত্রদের কাছে জরুরি প্রতিরক্ষা সহায়তার আবেদন

রিয়াদ, ১৭ সেপ্টেম্বর – ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক মিসাইল ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে মারাত্মক প্রতিরক্ষা সংকটে পড়েছে রিয়াদ। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘাতের কারণে সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনীর অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুদে টান পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও আকাশসীমা রক্ষায় পশ্চিমা ও আঞ্চলিক মিত্রদের দ্বারে কড়া নাড়ছে সৌদি প্রশাসন।
গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)-এর প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংকটের মূল কারণ ও বর্তমান চিত্র
ইন্টারসেপ্টর মিসাইল হলো এমন এক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা যা মাটি বা আকাশ থেকে ছুড়ে প্রতিপক্ষের ধেয়ে আসা ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝআকাশেই ধ্বংস করে দেয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঞ্চলিক সংঘাত ও মার্কিন-ইরান উত্তেজনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্রের মজুদও কিছুটা কমতির দিকে। ফলে মূল মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক রোপণমূলক সুবিধা না পেয়ে সৌদিকে বিকল্প দেশগুলোর দ্বারস্থ হতে হয়েছে।
সহায়তা চাওয়া দেশসমূহ: রিয়াদ সম্প্রতি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান এবং মিসরের কাছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense Assets) সৌদি আরবে মোতায়েন করার আবেদন জানিয়েছে।
মক্কা নগরীতে ড্রোন হামলা বিতর্ক: গত বুধবার সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করে, পবিত্র নগরী মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই তারা একটি হুথি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবে হুথি বিদ্রোহীরা এটিকে “ঘৃণ্য মিথ্যাচার” বলে আখ্যা দিয়েছে এবং জানিয়েছে যে সৌদির তেল ও সামরিক স্থাপনাই কেবল তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু।
মিত্রদের অবস্থান: ব্রিটেন ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সৌদির সঙ্গে কৌশলগত বন্ধুত্বের কথা বলা হলেও কিংবা সহমর্মিতা জানানো হলেও, এখন পর্যন্ত সামরিক সহায়তা দেওয়া বা মিসাইল পাঠানোর সুনির্দিষ্ট কোনো সম্মতি প্রকাশ করা হয়নি।
সৌদি আরব পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায়, তাদের তেল ক্ষেত্র ও সামরিক ঘাটিগুলোতে ক্রমাগত ড্রোন হামলা বিশ্ব বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এনএন/ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬







