ফুটবল

ট্রাম্প-ইনফান্তিনো ‘ঘনিষ্ঠতা’ নিয়ে তোলপাড়: এবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কাঠগড়ায় ফুটবল সংস্থা ফিফা!

ওয়াশিংটন, ২৮ জুলাই – মাঠের ভিএআর বিতর্ক ছাড়িয়ে এবার রাজনীতির পিচে বড় ধাক্কা খেল বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ সংস্থা ফিফা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে অনৈতিক ঘনিষ্ঠতা, উপহার লেনদেন, অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদান এবং বিচারিক সুবিধা নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সরাসরি তদন্তের মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটির (হাউজ অব জুডিসিয়ারি কমিটি) শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন ফিফা সভাপতির কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে কংগ্রেসে হাজির হয়ে জবাবদিহি করার নির্দেশ দিয়েছেন।

৯ আগস্টের মধ্যে সব গোপনীয় নথি তলব

আমেরিকান প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর হাতে আসা ওই চিঠির তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৯ আগস্টের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে দেওয়া ওই চিঠিতে ট্রাম্প, তাঁর পরিবার, ট্রাম্প অর্গানাইজেশন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ফিফার সমস্ত যোগাযোগের প্রমাণ চাওয়া হয়েছে।

যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে: যৌথ বৈঠক, আদান-প্রদান করা উপহার, আর্থিক লেনদেন, বিশেষ সুবিধা প্রদানসহ মিয়ামিতে ফিফার কার্যালয় এবং নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে থাকা ভিজিটর রেজিস্টার বুক।

ডিজিটাল বার্তার রেকর্ড: হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল, টেলিগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার) এবং ট্রুথ সোশ্যালে হওয়া সমস্ত ব্যক্তিগত খুদে বার্তা সংরক্ষণের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যেসব ঘটনা নিয়ে সন্দেহের দানা

২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর অস্বাভাবিক সম্পর্ক নিয়ে বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের নজর কেড়েছে:

১. ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ ও ট্রাম্প টাওয়ার: ট্রাম্পকে হঠাৎ নতুন চালু হওয়া ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ উপহার দেওয়া এবং নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফার নতুন অফিস ভাড়া নেওয়া।

২. ভেন্যু পরিবর্তন: বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠান লাস ভেগাস থেকে সরিয়ে ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে নিয়ে যাওয়া (যার পরিচালনায় পরে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠদের বসানো হয়)।

৩. বালোগানের নিষেধাজ্ঞা বাতিল বিতর্ক: বিশ্বকাপ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সরাসরি ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন ট্রাম্প। এর পরপরই ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, যদিও ফিফা একে ‘স্বাধীন সিদ্ধান্ত’ বলে দাবি করেছিল।

৪. দুর্নীতি মামলা প্রত্যাহার: ২০১৫ সালে ফিফাসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক দুর্নীতি মামলার তদন্ত থেকে মার্কিন বিচার বিভাগ হঠাৎ কেন সরে আসল—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাসকিন। তাঁর দাবি, ট্রাম্পকে নিজের পক্ষে রাখতেই ফিফা এসব কৌশল খাটিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের পাল্টা জবাব

তবে ডেমোক্র্যাটদের এই তদন্তের পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল এক বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সুবিধা এসেছে এবং লাখো সমর্থক ও খেলোয়াড় নিরাপদ পরিবেশে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পেরেছেন।

মাঠের লাল কার্ড কিংবা ভিএআর বিতর্কের পর এবার প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে ফিফা সভাপতিকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে ওয়াশিংটনের আইনি দলগুলোর। ৯ আগস্ট ইনফান্তিনো কী তথ্য দেন, সেদিকেই এখন নজর পুরো ক্রীড়াবিশ্বের।

এনএন/ ২৮ জুলাই ২০২৬


Back to top button