লোহিত সাগরে হুতিদের হামলা: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল

রিয়াদ, ২৬ জুলাই – লোহিত সাগরের দুটি প্রধান সৌদি তেল বন্দরে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য সংকট এক বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে। এই হামলার মধ্য দিয়ে পারস্য উপসাগরের সংঘাত এখন লোহিত সাগরেও ছড়িয়ে পড়ল। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী গত মে মাসের পর অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে আগামী অক্টোবরের মধ্যে তেলের দাম ১২০ থেকে ১৫০ ডলারে উন্নীত হতে পারে। এর আগে ২০০৮ সালে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১৪৬ ডলারে পৌঁছেছিল।
হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে জানিয়েছেন তারা সৌদি আরবের জিজান ও ইয়ানবু বন্দরে আরামকোর স্থাপনায় সফল অভিযান চালিয়েছেন। জিজান শোধনাগার এলাকায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সৌদির প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবু লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের মারিব আল জফ এবং হোদেইদাহর বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে। হুতি নেতা আব্দুল মালিক আল হুতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে সৌদি আরব সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে তাদের সব তেল স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন সংঘাত নিরসনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে। তিনি আপাতত ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলার সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও মার্কিন বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়েছেন তারা কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার করবেন না। আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জেপি মর্গানের মতে লোহিত সাগর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পারাপার হয় যা এখন হুমকির মুখে।
বিকল্প হিসেবে সুয়েজ খাল ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও বড় ট্যাঙ্কার চলাচলের সীমাবদ্ধতা এবং বীমা সংকটের কারণে তা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইরানকে টোল দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রিমিয়াম সুবিধা বন্ধ করে দিচ্ছে।
পাশাপাশি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে চলতি মাসের শুরুতে বাহরাইন ও কুয়েত গোপনে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুতাগারে হামলা চালিয়েছিল। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এস এম/ ২৬ জুলাই ২০২৬









