যৌন হয়রানির অভিযোগে অপসারিত আইসিসি প্রসিকিউটর করিম খান

নিউইয়র্ক, ২৫ জুলাই – আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর করিম খানকে তার পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর আদালতের সদস্য দেশগুলোর পরিষদের ভোটাভুটির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয় আইসিসির পরিচালনা পর্ষদ গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ অধিবেশনে আদালতের ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ৮২টি রাষ্ট্র তাকে অপসারণের পক্ষে ভোট প্রদান করে। এই ভোট একটি দীর্ঘ শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার ফসল যা করিম খানের অধীনে কর্মরত একজন নারী সহকর্মীর করা যৌন হয়রানির অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল।
তবে করিম খান শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার আইনজীবীরা এই প্রক্রিয়াকে পদ্ধতিগতভাবে অন্যায্য বলে সমালোচনা করেছেন এবং আইনিভাবে এই সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
ব্রিটিশ আইনজীবী করিম খান ২০২১ সালে নয় বছর মেয়াদে আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন যে তাকে অপসারণ করা হলেও আগে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাগুলোর ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
এর আগে গত মাসে আইসিসির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটি করিম খানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল। ২০২৪ সালে প্রথম এই অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে এলে তার আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন যে ইসরায়েলের নেতাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় তাকে হেয় করতেই এমন ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
এনএন/ ২৫ জুলাই ২০২৬









