জাতীয়

হাসপাতালে ফাঁকিবাজি ও নোংরা পরিবেশ বন্ধে চরম কড়াকড়ি! স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৬টি নির্দেশনা জারি

ঢাকা, ৪ জুলাই – সরকারি হাসপাতালে গিয়ে নোংরা পরিবেশ আর চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির চেনা ছবিটা এবার বদলাতে চলেছে। দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে একযোগে বড় ধরণের অ্যাকশনে নামছে প্রশাসন। বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্তিকে সামনে রেখে দেশের সব সরকারি হাসপাতাল সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে ডিজিটাল বা বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত করার কড়া তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক জরুরি চিঠিতে এই ৬ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশ অমান্য করলে বা গাফিলতি পাওয়া গেলে হাসপাতালের প্রধানদের সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এক নজরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৬টি কড়া নির্দেশনা:

আগামী ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি হতে যাচ্ছে। এই বিশেষ মাইলফলককে কেন্দ্র করে হাসপাতালগুলোর রূপরেখা বদলে দিতে যে ছয়টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো—

১. সার্বক্ষণিক পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব: সব মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের প্রধানদের সম্পূর্ণ নিজস্ব দায়িত্বে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ২৪ ঘণ্টা ঝকঝকে ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

২. ঊর্ধ্বতনদের সারপ্রাইজ মনিটরিং: পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি শুধু মৌখিক আদেশে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অধীনস্থ হাসপাতালগুলোর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কঠোরভাবে মনিটর করবেন।

৩. প্রতি শনিবার বিশেষ ক্লিন-আপ ড্রাইভ: দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালকদের প্রতি শনিবার সকাল থেকে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

৪. বিভাগীয় পরিচালকদের সচিত্র পরিদর্শন: অধিদপ্তরের নির্দিষ্ট তালিকা অনুযায়ী প্রত্যেক বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) জেলা সদর হাসপাতালগুলো সশরীরে পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন শেষে ছবিসহ (সচিত্র) একটি কমপ্লিট রিপোর্ট সরাসরি স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সচিব ও মহাপরিচালকের দপ্তরে পাঠাতে হবে।

৫. সিভিল সার্জনদের উপজেলা সফর: প্রত্যেক সিভিল সার্জন মাসের প্রতি শনিবারে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পরিদর্শন করবেন। তাদেরও সচিত্র পরিদর্শন প্রতিবেদন সরাসরি মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে হবে।

৬. বায়োমেট্রিক হাজিরা বাধ্যতামূলক (ডেডলাইন ১৭ আগস্ট): আগামী ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে দেশের প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল বায়োমেট্রিক মেশিন সচল করতে হবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত হাজিরা নিশ্চিত করতে হবে।

ব্যর্থ হলে সোজা অ্যাকশন:

বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু করতে কোনো ধরনের অজুহাত বা ব্যর্থতা মেনে নেওয়া হবে না। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে এটি বাস্তবায়ন না হয়, তবে তার জন্য সরাসরি প্রতিষ্ঠান প্রধান (পরিচালক/ইউএইচএফপিও) দায়ী থাকবেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাধারণ মানুষের স্বস্তি, বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ

সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষের অন্যতম বড় অভিযোগ থাকে নোংরা টয়লেট, ওয়ার্ডের অব্যবস্থাপনা এবং ডাক্তারদের সময়মতো না পাওয়া। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই নতুন পরিপত্র বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসাসেবায় বড় ধরণের সুবাতাস আসবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। তবে প্রতি শনিবার এই পরিদর্শন এবং সচিত্র প্রতিবেদন পাঠানোর নিয়মটি মাঠপর্যায়ে কতটুকু স্বচ্ছতার সাথে পালন করা হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

এনএন/ ৪ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language