মধ্যপ্রাচ্য

আয়াতুল্লাহ খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে নাজাফ ও কারবালায় ব্যাপক প্রস্তুতি

বাগদাদ, ৩ জুলাই – ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইরাকি সিকিউরিটি মিডিয়া সেলের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদ মান বাগদাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান যে সময়ের স্বল্পতার কারণে রাজধানী বাগদাদে কোনো আনুষ্ঠানিকতার পরিকল্পনা করা সম্ভব হয়নি। ইরাক প্রশাসন মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার নোটিশে এই বিশাল আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

একটি সফল ও সুশৃঙ্খল শোকযাত্রা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়ে আগামী সোম বা মঙ্গলবারের মধ্যে আরেকটি সংবাদ সম্মেলন করা হবে। নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী আগামী ৮ই জুলাই ভোর ছয়টায় কুফা থেকে নাজাফ অভিমুখে মরদেহ নিয়ে মূল শোকযাত্রা শুরু হবে।

এরপর বিকেল চারটায় পবিত্র কারবালা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ইমাম হোসেন ও হযরত আব্বাস (আ.) এর পবিত্র মাজারে চূড়ান্ত জানাজা ও বিদায়ানুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। এই ঐতিহাসিক শোকযাত্রায় ইরাকিদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দল অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।

একই সাথে বড় ধরনের এই জমায়েতে জরুরি স্বাস্থ্য ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করতে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ইরাকি কর্তৃপক্ষের সাথে যৌথভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে এই শোক মিছিলে ইরাকের জনসাধারণের পাশাপাশি ফাইলি কুর্দি সম্প্রদায়কে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফাইলি কুর্দিশ ন্যাশনাল কংগ্রেস।

এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায় যে নিপীড়িত মানুষের পক্ষে এবং মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ রক্ষায় মরহুম নেতার অবদান চিরস্মরণীয়। ঐতিহাসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হওয়া এই শিয়া কুর্দি সম্প্রদায় তাদের ধর্মীয় দায়িত্ববোধ থেকে এই জানাজায় অংশ নিয়ে ইরান ও ইরাকের মধ্যকার ভাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে চায়।

অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও প্রতিশোধের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।

এস এম/ ৩ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language