ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কখনো আলোচনার এজেন্ডায় ছিল না: শাহবাজ শরিফ

ইসলামাবাদ, ২৪ জুন – আমেরিকার সাথে ইরানের চলমান আলোচনায় দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কখনোই আলোচনার টেবিলে বা এজেন্ডায় ছিল না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ইসলামাবাদে সফররত ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
শাহবাজ শরিফ বলেন যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরান কখনোই তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে চায়নি এবং এটি কোনো ধারণাপ্রসূত বিষয় নয় বরং এক বাস্তব সত্য। এ সময় বৈশ্বিক রাজনীতির দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন যে অন্য দেশগুলোর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারলে ইরানের ক্ষেত্রে কেন আপত্তি তোলা হবে এমন বৈষম্যমূলক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আরও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে জানান যে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কোনো চুক্তির অংশ হবে না এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। দেশের প্রতিরক্ষায় এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন যে আজ যদি ইরানের এই আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা না থাকত তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গাজার মতোই ইরানকেও ধ্বংস করে দিত।
এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি প্যারিসে অনুষ্ঠিত জি ৭ শীর্ষ সম্মেলনে স্বীকার করেছেন যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের দাবিটি অবাস্তব ছিল। যুদ্ধের শুরুতে আমেরিকার অবস্থান ভিন্ন থাকলেও সামরিক অভিযান শেষে তাদের প্রাথমিক লক্ষ্যগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করার মতো মূল উদ্দেশ্যগুলো অর্জিত না হওয়ায় বর্তমানে ওয়াশিংটন কেবল হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কারিগরি আলোচনা চলছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মধ্যে প্রথম দফার বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে যা দেশটির অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন যে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে। তবে এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় লেবানন সীমান্তে শত্রুতা অবসানের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইসরাইল আমেরিকার যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে উপেক্ষা করায় লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে পৃথক আলোচনা শুরু হয়েছে যেখানে লেবানন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে এবং ইসরাইল হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রিকরণের শর্তে অনড় রয়েছে।
এস এম/ ২৪ জুন ২০২৬









