মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলে অনিয়ম: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর

ঢাকা, ২৩ জুন – মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৩০৯ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তা দাখিল করতে পারেনি। এ কারণে ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ আলমগীর নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর দুদক শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন,
- সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু,
- তোফায়েল আহমেদ,
- খন্দকার মোশাররফ হোসেন,
- ওবায়দুল কাদের,
- আনিসুল হক এবং
- সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।
- এছাড়াও আসামির তালিকায় রয়েছেন সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিক,
- অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল,
- উপ-সচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম,
- প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল,
- ইবনে আলম হাসান,
- মো. আফতাব হোসেন খান,
- মো. আব্দুস সালাম এবং
- সিএনএস লিমিটেডের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০১৬ সালে পূর্বের বৈধ দরপত্র বাতিল করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস (সিএনএস) লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক প্রক্রিয়ায় মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কোনো প্রতিযোগিতামূলক আলোচনা ছাড়াই এই চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছিল।
চুক্তি অনুযায়ী সিএনএস লিমিটেডকে আদায়কৃত টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি ৪৮৯ কোটি টাকার বেশি বিল গ্রহণ করে। অথচ পূর্ববর্তী সময়ে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ছিল মাত্র ১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি। দুদকের দাবি অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া এই চুক্তি করায় সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এস এম/ ২৩ জুন ২০২৬









