একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি আল মুজাহিদী আর নেই

ঢাকা, ১৯ জুন – একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি আল মুজাহিদী ইন্তেকাল করেছেন। ১৯ জুন দুপুর ২টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাইফুল্লাহ মানসুর তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এই মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন।
আল মুজাহিদী দীর্ঘ সময় ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা এবং হৃদরোগে ভুগছিলেন। এক বছর আগে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন।
কবি আল মুজাহিদী কেবল একজন কবিই ছিলেন না, তিনি দীর্ঘ দিন দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তার অবাধ বিচরণ ছিল। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে হেমলকের পেয়ালা, ধ্রুপদ ও টেরাকোটা, যুদ্ধ নাস্তি, মৃত্তিকা অতি মৃত্তিকা, প্রিজন ভ্যান, দিদেলাস ও ল্যাবিরিস্থ এবং ঈডের হ্যামলেট। এছাড়া প্রাচ্য পৃথিবী, পৃথিবীর ধুলো, সৌর জোনাকি, ভিতা নুওভা এবং আল মুজাহিদীর শ্রেষ্ঠ কবিতার মতো কালজয়ী গ্রন্থ তিনি পাঠকদের উপহার দিয়েছেন।
কথাসাহিত্যেও তিনি ছিলেন সমান দক্ষ। তার রচিত উপন্যাসের তালিকায় রয়েছে প্রথম প্রেম, চাঁদ ও চিরকুট, মিলু এট ও স্যোন্যাটা এবং লাল বাতির হরিণ।
শিশুদের জন্য তিনি লিখেছেন হালুম হুলুম, তালপাতার সেপাই এবং শেকল কাটে খাঁচার পাখির মতো জনপ্রিয় সব বই।
অনুবাদ সাহিত্যেও তার অবদান অনস্বীকার্য, যেখানে তিনি কাইফি আজমি এবং আহমদ ফরাজের মতো প্রথিতযশা কবিদের কবিতা বাংলায় অনুবাদ করেছেন।
সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আল মুজাহিদী একুশে পদক, জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, কবি জসীম উদ্দীন একাডেমি পুরস্কার এবং মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
তার প্রয়াণে দেশের সাহিত্য অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
এনএন/ ১৯ জুন ২০২৬









