ইসরায়েলকে জে ডি ভ্যান্সের কড়া হুঁশিয়ারি: কেবল যুদ্ধের মাধ্যমে টিকে থাকা সম্ভব নয়

ওয়াশিংটন, ১৯ জুন – ইরানের সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার কঠোর সমালোচনার জবাবে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। ইসরায়েলকে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই তাদের একমাত্র বন্ধু হিসেবে অবশিষ্ট রয়েছে এবং কেবল সামরিক শক্তি বা হত্যার মাধ্যমে সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার কট্টরপন্থী সদস্যদের আক্রমণাত্মক মন্তব্যের জবাবে ভ্যান্স স্পষ্ট করেন যে, হোয়াইট হাউসের এই শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করে তারা মূলত নিজেদের একমাত্র শক্তিশালী মিত্রকেই অপমান করছে। একইসাথে লেবাননে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়ে ইসরায়েল শান্তি আলোচনা নস্যাৎ করছে বলেও তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত এই সহযোগিতা স্মারক নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য পর্দার আড়ালে চরম ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে উগ্র ডানপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রী ইতামার বেন গ্যভির ও বেজালেল স্মোট্রিচ এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন।
এর জবাবে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ৯ মিলিয়নের একটি দেশ কেবল যুদ্ধের মাধ্যমে টিকে থাকতে পারে না। গত তিন মাসে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত দুই তৃতীয়াংশ অস্ত্রই মার্কিন করদাতাদের টাকায় তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ইসরায়েলকে বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবনের পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে বেন গ্যভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা জবাবে বলেন, বর্তমান সময়ের শত্রুদের সেভাবেই মোকাবিলা করতে হবে যেভাবে অতীতে নাজিদের দমন করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরানের প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের অবরুদ্ধ তহবিল ছেড়ে দেওয়া এবং ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনার মতো বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে।
এর বিনিময়ে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে রাজি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে এই চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর তাৎক্ষণিক কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এটিকে একটি আত্মসমর্পণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও এই চুক্তিকে একটি বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির গণমাধ্যমগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
অন্যদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, নিরুপায় হয়েই ট্রাম্প এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স মনে করছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হবে।
এস এম/ ১৯ জুন ২০২৬









