মধ্যপ্রাচ্য

ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধের ঘোষণা: স্বস্তিতে মধ্যপ্রাচ্য

তেহরান, ৯ জুন – কয়েক ঘণ্টার চরম উত্তেজনার পর অবশেষে পাল্টাপাল্টি হামলা থামানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও ইসরায়েল। সোমবার ভোররাত পর্যন্ত উভয় দেশের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চললেও সকাল থেকে নতুন কোনো বড় ধরনের আক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত স্তিমিত হয়েছে। তবে পরিস্থিতির গভীরতা পর্যবেক্ষণ করে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা একে এখনো নাজুক বলে মনে করছেন।

গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম ইরান ও ইসরায়েল সরাসরি একে অপরের ভূখণ্ডে আঘাত হানল। এবারের সংঘাতের সূত্রপাত হয় লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর একটি শক্তিশালী হামলার মাধ্যমে।

ইসরায়েলের দাবি ছিল, তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর একটি গোপন ঘাঁটি। তবে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেই হামলায় অন্তত দুজন সাধারণ নাগরিক নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বৈরুতে হামলার পরপরই তেহরান কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি প্রদান করে। এর কিছু সময় পর ইরান কয়েক দফায় ইসরায়েলের দিকে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে তেল আবিবসহ দেশটির বিভিন্ন প্রধান শহরে সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা অধিকাংশ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইসরায়েলও পাল্টাপাল্টি বড় ধরনের আক্রমণ চালায়। দেশটির বিমান বাহিনী ইরানের মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলা করে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, ইসরায়েলি হামলায় কারুন পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী বা আইআরজিসি ইসরায়েলের হাইফায় অবস্থিত একটি পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্রে এবং দক্ষিণ ইসরায়েলের কয়েকটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইয়েমেন থেকেও ইসরায়েলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তবে সেটি লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এই হামলায় জড়িত ছিল।

সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি উভয় পক্ষকেই সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানান। ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন যে, ইরান তাদের প্রয়োজনীয় বার্তা পৌঁছে দিয়েছে এবং এখন আলোচনার টেবিলে ফেরার সময় এসেছে। যদিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেকোনো সময় সামরিক অভিযান ফের শুরু হতে পারে।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ওপর পুনরায় কোনো হামলা হলে তেহরান কঠোরভাবে তার জবাব দিতে প্রস্তুত। আপাতত এই সংঘাত থামায় বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও আঞ্চলিক অস্থিরতা পুরোপুরি কাটেনি।

এনএন/ ৯ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language