জাবির নতুন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. শামছুল আলম সেলিম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি

ঢাকা, ৬ জুন – জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার হাল ধরতে নতুন উপ-উপাচার্য বা প্রো-ভিসি (শিক্ষা) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের প্রবীণ ও বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. শামছুল আলম সেলিম।
আজ শনিবার (৬ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী তাকে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের মূল শর্তসমূহ:
মেয়াদ: যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছর তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন (অবসর গ্রহণের তারিখের মধ্যে যেটি আগে আসে)।
সুযোগ-সুবিধা: এই পদে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।
শর্ত: তাকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে এবং সংবিধি ও আইন অনুযায়ী অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবে চ্যান্সেলর চাইলে যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতাও সংরক্ষণ করেন।
অধ্যাপক ড. শামছুল আলম সেলিমের এই নিয়োগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই সরকার ও রাজনীতি বিভাগের একজন সাবেক কৃতী শিক্ষার্থী। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বর্তমানে জাবির সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এক নজরে তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা:
১৯৮৮ সাল থেকে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি জাবিতে শিক্ষকতা ও গবেষণায় সক্রিয়ভাবে জড়িত। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের প্রোভোস্ট, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান, পরিবহন অফিসের প্রশাসক, উচ্চশিক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং নির্বাচিত সেনেটর ও সিন্ডিকেট সদস্যের মতো প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ সামলেছেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েরও একজন সম্মানিত সিনেট সদস্য।
গবেষণা ও শিক্ষায় অসামান্য অবদান
ড. শামছুল আলম কেবল একজন দক্ষ প্রশাসকই নন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রবিজ্ঞান চর্চায় তিনি একজন অগ্রগণ্য গবেষক। দেশের প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আল মাসুদ হাসানউজ্জামানের সাথে যৌথভাবে সম্পাদিত তার ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা’ বইটি একটি আকর বা তথ্যসূত্র গ্রন্থ হিসেবে সমাদৃত।
এছাড়া ‘সামরিক শাসনের সংকট ও রাজনৈতিক উন্নয়ন: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক তার ডক্টরাল (পিএইচডি) গবেষণাটি শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য জার্নালে তার ৩৩টিরও বেশি উচ্চমানের গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি অন্তত ৪৫টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্প সফলভাবে শেষ করেছেন।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীবান্ধব এবং নিবেদিতপ্রাণ এই শিক্ষাবিদের হাত ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও গতিশীল হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।
এনএন/ ৬ জুন ২০২৬









