জাতীয়

আওয়ামী লীগ প্রশ্নে বড় দলগুলো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে: মাহফুজ আলম

ঢাকা, ১ জুন – বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ইস্যু নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির মূলে রয়েছে দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দলের নিরাপত্তাহীনতা। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এই মন্তব্য করেছেন। তিনি তাঁর পোস্টে রাজনৈতিক দলগুলোর এই নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপট ও কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

মাহফুজ আলম বলেন, আওয়ামী লীগ প্রশ্নে বর্তমানে যা ঘটছে তা মূলত দুই বড় দলের নিরাপত্তাহীনতা থেকে উদ্ভূত।

তাঁর মতে, বিএনপি ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক স্মৃতি ভুলতে পারছে না। অন্যদিকে, নব্বইয়ের দশকে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের যৌথ আক্রমণের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে জামায়াতে ইসলামী এখন আদর্শিক শত্রুতা ও সহিংসতার আশঙ্কায় রয়েছে। তিনি মনে করেন, এই অতীত স্মৃতিই রাজনৈতিক দলগুলোর বর্তমান ভয়ের প্রধান উৎস।

দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র চর্চার চেষ্টা করতে পারে এবং জামায়াত হয়তো অনেকটা নিভৃতে চলে যেতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন এই প্রজন্মের বিপ্লবীরা যারা আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করেছেন।

জামায়াতের জোটে যাওয়ার ফলে এই ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বের সমালোচনা করে মাহফুজ আলম বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কর্মীরা নিজেদের মধ্যকার ক্ষুদ্র স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। তিনি তাঁর সাবেক সতীর্থদের নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, তরুণদের উচিত নিজেদের সামর্থ্য বাড়িয়ে জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া। দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ের জন্য শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রভাব তৈরির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, প্রবীণ রাজনীতিবিদরা তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। সত্তরের বা নব্বইয়ের দশকের মতোই বর্তমানেও তরুণদের শক্তি ক্ষয় হচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

লড়াইটা মূলত তরুণ প্রজন্মের উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী প্রজন্মের ওপর ভরসা না করে নিজেদের কৌশল নিজেদেরই নির্ধারণ করতে হবে।

ব্যক্তিগত আক্রমণ ও বিদ্বেষ পরিহার করে জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানকে মূল লক্ষ্য হিসেবে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

এনএন/ ১ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language