যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সম্পর্কে নতুন মোড়, কংগ্রেসে বিশেষ প্রস্তাব

ওয়াশিংটন, ৩১ মে – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে মার্কিন কংগ্রেসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে দুই দেশের মধ্যে অস্ত্র গবেষণা, উৎপাদন এবং সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নে অভূতপূর্ব সহযোগিতার পথ প্রশস্ত হবে।
ইউনাইটেড স্টেটস ইসরায়েল ডিফেন্স টেকনোলজি কো অপারেশন ইনিশিয়েটিভ শীর্ষক এই উদ্যোগটি ২০২৭ অর্থবছরের ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্টের খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এনডিএএ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতি ও ব্যয় নির্ধারণী প্রধান আইন। বর্তমানে প্রস্তাবটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির অনুমোদনের পর এটি সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের ভোটাভুটির মুখোমুখি হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আইন কার্যকর হলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কের ধরনে আমূল পরিবর্তন আসবে।
আগে যেখানে মার্কিন সহায়তা মূলত আর্থিক অনুদান কেন্দ্রিক ছিল, এখন তা সরাসরি প্রযুক্তি ও শিল্প সংযোগের দিকে মোড় নেবে। প্রস্তাবিত আইনে একজন বিশেষ এক্সিকিউটিভ এজেন্ট নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। তিনি দুই দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয় এবং যৌথ গবেষণা কার্যক্রম তদারকি করবেন।
এই সহযোগিতার আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং আধুনিক সেন্সর ব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল খাতগুলো স্থান পাবে। বর্তমানে দুই দেশ যৌথভাবে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করলেও নতুন পরিকল্পনা একে আরও বিস্তৃত করবে।
তবে এই প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা জস পল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এই আইন ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে দেবে যে ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি মনে করেন, এর ফলে ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র নীতিতে ইসরায়েলের প্রভাব কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। এমন সময়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল। গাজা যুদ্ধ এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মাঝে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মহলে চাপের মুখে রয়েছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগের মুখে থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন তাদের এই দীর্ঘমেয়াদি সমর্থন অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৯৪৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা পেয়েছে।
সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও মার্কিন সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, আর্থিক সহায়তার পরিবর্তে প্রযুক্তি ও শিল্পভিত্তিক সহযোগিতা বর্তমান সময়ের জন্য বেশি কার্যকর। কংগ্রেসে উত্থাপিত নতুন এই প্রস্তাবটি মূলত সেই লক্ষ্য অর্জনের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এস এম/ ৩১ মে ২০২৬









