পড়ালেখার পাশাপাশি গোলাপ চাষে সফল ময়মনসিংহের তরুণ শামীম

ময়মনসিংহ, ৩০ মে – ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দড়ি কুষ্টিয়া গ্রামের বাতাসে এখন গোলাপের সুবাস। হোয়াইট অ্যাভাল্যান্স, লাল রঙের টপ সিক্রেট, হলুদ রঙের সোলারিয়া এবং সাদা ও গোলাপীর মিশ্রণের জুমেলিয়াসহ দেশীয় ও বিদেশি নানা জাতের গোলাপ ফুলে ছেয়ে গেছে পুরো বাগান।
এই সফল উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন মুক্তাগাছা শহীদ স্মৃতি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শামীম মিয়া। পঁচিশ বছর বয়সী এই তরুণ পড়ালেখার পাশাপাশি মানুষের জমি বর্গা নিয়ে সবজি চাষ করে জমানো টাকায় গড়ে তুলেছেন নিজের স্বপ্নের বাগান।
২০২৫ সালে বাড়ির পাশের ১০০ শতক জমি ১০ বছরের জন্য লিজ নিয়ে শামীম তার যাত্রা শুরু করেন। এর মধ্যে ৫০ শতক জমিতে তিনি ডাচ ও দেশীয় গোলাপের বাগান করেছেন। তার বাগানে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার গোলাপ গাছ রয়েছে।
এসব গাছের চারা মূলত যশোর ও ভারত থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। শামীম জানান যে ছোটবেলা থেকেই কৃষিকাজের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি ব্যতিক্রমী কিছু করার স্বপ্ন দেখেন।
বর্তমানে শামীমের বাগান থেকে প্রতি তিন থেকে চার দিন পর পর ৩০০ থেকে ৫০০টি ফুল সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিটি ফুল ১০ টাকা দরে ময়মনসিংহ ও মুক্তাগাছার বিভিন্ন দোকানে এবং অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে।
ইতিমধ্যে তিনি প্রায় ৫০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করেছেন। শামীমের এই বাগান এখন স্থানীয়দের কাছেও অন্যতম এক দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা এখানে এসে ভিড় জমাচ্ছেন এবং ফুল কিনছেন।
শামীমের বাবা মো. সাহেব আলী ছেলের এই সাফল্যে গর্বিত। তিনি জানান যে প্রথম থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি কৃষিকাজে শামীমের যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। ময়মনসিংহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জুবায়রা বেগম সাথী বলেন যে জেলায় এ ধরনের গোলাপ বাগান আগে ছিল না।
কলেজছাত্র হয়েও শামীম প্রমাণ করেছেন যে কঠোর পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষি খাতে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। কৃষি বিভাগ থেকে এই তরুণ উদ্যোক্তাকে নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। শামীম মনে করেন চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়া প্রয়োজন।
এস এম/ ৩০ মে ২০২৬









