উত্তর আমেরিকা

জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন রকেটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, চন্দ্র মিশনে বড় ধাক্কা

ওয়াশিংটন, ৩০ মে – মহাকাশ গবেষণার প্রতিযোগিতায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে জেফ বেজোসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিন। উৎক্ষেপণের আগে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে কোম্পানিটির উচ্চাকাঙ্ক্ষী নিউ গ্লেন রকেটটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়েছে। এই রকেটটি ভবিষ্যৎ চন্দ্র মিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

ফ্লোরিডার উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে নিউ গ্লেন রকেটের পরীক্ষা চলাকালে গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন ভয়াবহ বিস্ফোরণে রূপ নেয়। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে বিশাল রকেটটি আগুনের গোলার মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকাটি ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।

চতুর্থ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রকেটটিতে অ্যামাজনের ৪৮টি লো আর্থ অরবিট বা লিও স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। এই নেটওয়ার্ক মূলত ইলন মাস্কের স্টারলিংকের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। তবে বিস্ফোরণের সময় স্যাটেলাইটগুলো রকেটে সংযুক্ত না থাকায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও বিলম্বের কারণে নিউ গ্লেন প্রকল্পটি বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল এবং এই দুর্ঘটনা প্রকল্পটিকে আরও অনিশ্চয়তায় ফেলল। নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির আওতায় চাঁদে সরঞ্জাম পাঠানোর পরিকল্পনায় এই রকেট ব্যবহারের কথা ছিল।

দুর্ঘটনার ঠিক দুই দিন আগেই নাসা ব্লু অরিজিনকে চন্দ্র মিশনে সহায়তার জন্য ১৮৮ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি প্রদান করেছিল। ব্লু অরিজিন জানিয়েছে যে হট ফায়ার পরীক্ষার সময় একটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটে। রকেটকে স্থির রেখে ইঞ্জিন চালু করে কার্যকারিতা যাচাই করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জেফ বেজোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দিনটিকে অত্যন্ত কঠিন হিসেবে অভিহিত করেছেন। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানিয়েছেন যে এই ঘটনার তদন্তে তারা ব্লু অরিজিনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন। তিনি আরও বলেন যে ভারী রকেট প্রযুক্তি উন্নয়ন অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া এবং এমন ব্যর্থতা গবেষণারই অংশ।

বর্তমানে মহাকাশ প্রতিযোগিতায় ইলন মাস্কের স্পেসএক্স ও বেজোসের ব্লু অরিজিন চাঁদে মানুষ পাঠানোর লড়াইয়ে রয়েছে। তবে ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা স্পেসএক্সেরও রয়েছে এবং তাদের স্টারশিপ রকেটও ইতিপূর্বে একাধিকবার পরীক্ষার সময় বিস্ফোরিত হয়েছে। মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে নিশ্চিত করেছে।

এস এম/ ৩০ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language