ঈদের আগে রেকর্ড রেমিট্যান্সের জোয়ার, এক দিনেই এলো ১৭ কোটি ডলার

ঢাকা, ২৬ মে – পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র বাকি কয়েক দিন। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের অর্থনীতিতে বইছে আনন্দের সুবাতাস। প্রতিবারের মতো এবারও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নাড়ির টানে দেশে থাকা পরিবারের কাছে দেদারসে টাকা পাঠাচ্ছেন রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। যার ফলে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। মে মাসের মাত্র এক দিনেই দেশে এসেছে ১৭ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয়! আর চলতি মাসের প্রথম ২৩ দিনেই রেমিট্যান্স প্রবাহে এক লাফে ৪১ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে এক ধাক্কায় বেশ চাঙ্গা করে তুলেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) রেমিট্যান্সের এই চোখ ধাঁধানো তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম ২৩ দিনে (১ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২৯৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।
এই পরিসংখ্যানটি কতটা চমকপ্রদ, তা বোঝা যাবে গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে। গত বছরের (২০২৫) মে মাসের প্রথম ২৩ দিনের তুলনায় এবার ৮৭ কোটি ডলার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। শতকরা হিসাবে মে মাসের এই সময়ে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪১ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে কেবল গত ২৩ মে—এক দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৭ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি রেকর্ড পরিমাণ অর্থ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বরাবরের মতোই এবারও ঈদ উৎসবের খরচ মেটাতে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ, বিশেষ করে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
ব্যাংকার ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য পছন্দের পশু কেনা, নতুন পোশাক এবং উৎসবের অন্যান্য অতিরিক্ত খরচ মেটাতে প্রবাসীরা সাধারণত এই সময়ে বেশি বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়ে থাকেন। আর এবার বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাংকের বিশেষ প্রণোদনা ও ব্যাংকিং চ্যানেল সহজ করায় হুন্ডির চেয়ে ব্যাংকের মাধ্যমেই টাকা পাঠাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন প্রবাসীরা।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের গতি ছিল বেশ ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৩ মে পর্যন্ত দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৩ হাজার ৩০৯ কোটি মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি।
ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ দেশের ডলার সংকট কাটাতে এবং কোরবানির পশুর হাটের কেনাবেচায় এক বিশাল ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা।
এনএন/ ২৬ মে ২০২৬









