১৯৯ তম জামাতের অপেক্ষায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া: ৪ স্তরের নিরাপত্তা আর বন্দুকের গুলিতে শুরু হবে নামাজ

কিশোরগঞ্জ, ২৬ মে – কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত আয়োজনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে মাঠ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা, কাতারের দাগ টানা ও পানি নিষ্কাশনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ঈদগাহ কমিটির কর্মকর্তারা দিনরাত এসব তদারকি করছেন।
মঙ্গলবার শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও ঈদগাহ মাঠ কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে জেলা প্রশাসক জানান, ইতোমধ্যে মাঠে দাগ কাটা ও সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
১৮২৮ সালে প্রথম জামাত শুরু হওয়ার ধারাবাহিকতায় এবার শোলাকিয়ায় ঈদুল আজহার ১৯৯ তম জামাত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ঐতিহ্য অনুযায়ী সকাল ৯টায় জামাত শুরু হবে। জামাত শুরুর আগে প্রচলিত রীতিতে শটগানের গুলি ফুটিয়ে সংকেত দেওয়া হবে।
এবার জামাতে ইমামতি করবেন কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, শোলাকিয়ায় চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। মাঠের ভেতরে ও বাইরে ৬৪টি সিসি ক্যামেরা এবং চারটি ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে। ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে আকাশপথ থেকে নজরদারি করা হবে।
এছাড়া আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট মোতায়েন থাকবে। মুসল্লিরা মাঠে কেবল জায়নামাজ ও মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। ব্যাগ বা অন্য কোনো বস্তু বহন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে শোলাকিয়া এক্সপ্রেস নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে।
১৮২৮ সালে দেওয়ান হয়বত খান বাহাদুর নরসুন্দা নদীর তীরে এই ঈদগাহ মাঠটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় সাত একর আয়তনের এই ঐতিহাসিক ময়দানে একসঙ্গে দুই লাখের বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মাঠটিতে মোট ২৬৫টি কাতার রয়েছে।
এনএন/ ২৬ মে ২০২৬









