আইন-আদালত

শিশু রামিসা হত্যায় গোটা জাতি আজ লজ্জিত, দ্রুত বিচারে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের দাবি মাহবুব উদ্দিন খোকনের

ঢাকা, ২৪ মে – রাজধানীতে সংঘটিত শিশু রামিসা আক্তার হত্যার মতো দেশের সব স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে এবং আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্ট বিভাগে অবিলম্বে ‘বিশেষ বেঞ্চ’ গঠন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার অ্যাসোসিয়েশন) সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

আজ রোববার (২৪ মে) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের বিচার ব্যবস্থার বিদ্যমান জটলা ও নারী-শিশু নির্যাতনের প্রতিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “নিষ্পাপ শিশু রামিসার সঙ্গে ঘটে যাওয়া নৃশংস, নির্লজ্জ ও ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য আজ গোটা জাতি বিশ্ব দরবারে অসম্মানিত ও লজ্জিত। আইনজীবী হিসেবে আমাদের হৃদয়েও রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তবে আমাদের অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো—এ ধরনের রোমহর্ষক মামলার বিচারকাজ শুরু হলেও তা বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ পার হয়ে যায় কিন্তু শেষ হয় না।”

তিনি আরও যোগ করেন, “মানুষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাখতে হলে দ্রুত বিচারের নিশ্চয়তা রাষ্ট্রকেই দিতে হবে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা কোনো বেআইনি বিষয় নয়, বরং বিচারিক প্রক্রিয়ার এই অন্তহীন দীর্ঘসূত্রতাকেই সাধারণ মানুষ এখন অন্যায় মনে করে।”

ক্ষতিপূরণ বোর্ড গঠন ও নতুন বিচারক নিয়োগের জোর দাবি

চাঞ্চল্যকর মামলার পাহাড়সম জট কমাতে সুপ্রিম কোর্টের বারের সভাপতি প্রধান বিচারপতি ও সরকারের প্রতি কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন:

বিশেষ বেঞ্চ গঠন: নারী ও শিশু নির্যাতনসহ চাঞ্চল্যকর স্পর্শকাতর ঘটনাগুলোর জন্য হাইকোর্টে ডেডিকেটেড বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা, যাতে নিম্ন আদালতের সাজার পর উচ্চ আদালতে আসা আপিলগুলো দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি হয়।

বিচারক নিয়োগ: উচ্চ আদালতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিচারক সংকট দূর করতে অবিলম্বে যোগ্য ও নিরপেক্ষ বিচারক নিয়োগ দেওয়া।

ক্ষতিপূরণ বোর্ড গঠন: রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে দায়ের করা মিথ্যা মামলা অবিলম্বে বন্ধ করা এবং মিথ্যা মামলায় ফেঁসে গিয়ে বছরের পর বছর হয়রানির শিকার হওয়া নির্দোষ ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসন ও আইনি ক্ষতিপূরণ দিতে একটি স্বাধীন ‘ক্ষতিপূরণ বোর্ড’ গঠন করা।

সরকারের আশ্বাসে মানুষ আর বিশ্বাস করছে না:

নিম্ন আদালতে সাজা হওয়ার পর উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির কচ্ছপ গতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “কারও কোনো সাজা হওয়ার পর সেই আপিল শুনানি শেষ হতে সুপ্রিম কোর্টে কত বছর লাগবে—তা আজ দেশের কোনো আইনজ্ঞ বা ভুক্তভোগী নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। ফলশ্রুতিতে সরকারের ফাঁকা আশ্বাসে সাধারণ মানুষ এখন আর বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করছে না। তাই পুলিশি তদন্তের গাফিলতি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা দূর করে অবিলম্বে দৃশ্যমান অ্যাকশনে যেতে হবে।”

এনএন/ ২৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language