এশিয়া

চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে চীনের দীর্ঘতম মহাকাশ মিশন শুরু

বেইজিং, ২৪ মে – চাঁদে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য অর্জনে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এক বছর মেয়াদী দীর্ঘস্থায়ী মহাকাশ মিশন শুরু করতে যাচ্ছে চীন। ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে এই মিশনটিকে বেইজিংয়ের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

উত্তর পশ্চিম চীনের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে স্থানীয় সময় আজ রবিবার রাত ১১টা ০৮ মিনিটে শেনঝৌ ২৩ মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করার কথা রয়েছে। লং মার্চ টু এফ ওয়াই ২৩ রকেটের মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালিত হবে।

চীনের মহাকাশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী,

এই অভিযানে অংশ নেওয়া তিন নভোচারীর মধ্যে একজন টানা এক বছর তিয়াংগং স্পেস স্টেশনে অবস্থান করবেন। এটি হতে যাচ্ছে চীনের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে দীর্ঘতম মিশন। এই অভিযানের অন্যতম বিশেষত্ব হলো হংকংয়ের সাবেক পুলিশ ইন্সপেক্টর লি জিয়াইংয়ের অংশগ্রহণ।

তিনি প্রথম হংকং নিবাসী হিসেবে চীনের কোনো মহাকাশ মিশনে অংশ নিচ্ছেন। দলের অন্য দুই সদস্য হলেন কমান্ডার ঝু ইয়াংঝু এবং পাইলট ঝাং ইউয়ানঝি। তারা উভয়েই পিপলস লিবারেশন আর্মির দক্ষ মহাকাশচারী ইউনিটের সদস্য। মহাকাশে দীর্ঘ সময় অবস্থানের ফলে মানুষের শরীর ও মনের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা পর্যবেক্ষণ করাই এই মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য।

চীনের মানববাহী মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছে,

নভোচারীদের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হবে ঠিক কে দীর্ঘতম সময় সেখানে অবস্থান করবেন। বর্তমানে মহাকাশ গবেষণায় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করলেও চীন ২০৩০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে।

ইতিমধ্যে চাঁদের অন্ধকার অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ইতিহাস গড়েছে দেশটি। মানুষ পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে বর্তমানে লং মার্চ ১০ রকেট এবং লানিউ ল্যান্ডারের পরীক্ষা চলছে। এই মিশনে মহাকাশ বিকিরণ এবং হাড়ের ঘনত্ব হ্রাসের মতো শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক চাপের প্রভাব নিয়ে নিবিড় গবেষণা চালানো হবে।

এছাড়া তিয়াংগং স্টেশনে মানব স্টেম সেল ব্যবহার করে কৃত্রিম ভ্রূণের বিকাশের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে। এই গবেষণাগুলো ভবিষ্যতে মহাকাশে মানুষের স্থায়ী আবাসন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

এস এম/ ২৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language