শনিবার খোলা থাকছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্ষুব্ধ শিক্ষক ও অভিভাবকরা

ঢাকা, ২১ মে – ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে দেশের সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি শুরু হচ্ছে। তবে বাৎসরিক ছুটির তালিকায় থাকা এই দীর্ঘ ছুটি শুরুর ঠিক আগে শনিবার প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্তে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী আগামী ২৪ মে থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কলেজগুলোতে একযোগে ছুটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর আগে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠানগুলোতে মূলত বৃহস্পতিবারই শেষ ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, রমজানের ছুটির কারণে সৃষ্ট পড়াশোনার ঘাটতি পুষিয়ে নিতে শনিবারও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান চলবে। এতে করে মাধ্যমিক ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটির বাড়তি সুযোগ পেলেও প্রাথমিকে সংশ্লিষ্টরা বিড়ম্বনায় পড়েছেন।
শিক্ষকদের দাবি, রমজানের ছুটিতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই সময় বন্ধ ছিল। এমতাবস্থায় কেবল প্রাথমিকের ক্ষেত্রে ঘাটতি হওয়ার যুক্তিটি প্রশ্নবিদ্ধ এবং বৈষম্যমূলক। রাজবাড়ীর একজন সহকারী শিক্ষক জানান, মাধ্যমিক ও মাদরাসায় একই সময় ছুটি থাকলেও কেবল প্রাথমিকে বাড়তি চাপের এই সিদ্ধান্তটি শিক্ষকদের ওপর জুলুমের শামিল।
শিক্ষক নেতাদের মতে, অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষকদের মধ্যে মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে, যা সরাসরি পাঠদানের গুণগত মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এদিকে অভিভাবকরাও এই সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন। অনেক অভিভাবক ছুটির কথা চিন্তা করে সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার টিকিট আগেভাগেই কিনে রেখেছিলেন।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ছুটির হিসাব অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা টানা ১৬ দিনের ছুটি পেলেও প্রাথমিকে ছুটি মিলছে ১৪ দিন। অন্যদিকে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ২৩ জুনের দীর্ঘ ছুটি উপভোগ করতে পারবেন।
এনএন/ ২১ মে ২০২৬









