কেরানীগঞ্জে গড়ে উঠেছে বিশাল দুম্বার খামার: কোরবানির ঈদে বাড়ছে চাহিদা

কেরানীগঞ্জ, ১৮ মে – মরু অঞ্চলের প্রাণী হিসেবে পরিচিত দুম্বা এখন বাংলাদেশের মাটিতে বাণিজ্যিকভাবে পালিত হচ্ছে। ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরের নোয়াদ্দা এলাকায় পপুলার এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্ম নামে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম একটি বৃহৎ দুম্বার খামার। আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে খামারটিতে বাড়ছে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড়।
খামার সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০২০ সালে হাজী উজ্জ্বল ইসলাম মাত্র তিনটি তুর্কি দুম্বা নিয়ে এই খামারটির যাত্রা শুরু করেছিলেন। বর্তমানে খামারে বিদেশি বিভিন্ন জাতের চার শতাধিক দুম্বা, গাড়ল ও ভেড়া রয়েছে। স্থানীয় অনেক উদ্যোক্তাই এখন এই খামার দেখে দুম্বা পালনে উৎসাহিত হচ্ছেন এবং অনেকে এখান থেকে প্রাণী সংগ্রহ করছেন।
খামারের ব্যবস্থাপক হাফিজুর ইসলাম হাফিজ জানান, কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় দুম্বার চাহিদা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। খামারে থাকা দুম্বাগুলো আকার ও জাতভেদে এক লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। প্রাণীগুলোকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার যেমন গমের ভূষি, ডাবলি ভূষি, ছোলার ভূষি এবং কাঁচা ঘাস খাইয়ে লালন-পালন করা হয়।
যথাযথ পরিচর্যার কারণে এখানকার দুম্বাগুলো বেশ স্বাস্থ্যবান ও দ্রুত বর্ধনশীল। কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর উপজেলায় কোরবানির জন্য মোট ১৪ হাজার ২৬৬টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ১২ হাজার ৬৬৭টি এবং অন্যান্য পশুর পাশাপাশি ২৯৫টি ভেড়া ও ৫২টি বিশেষ প্রজাতির পশু রয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার বেগ জানান, দুম্বা মূলত শুষ্ক অঞ্চলের প্রাণী হলেও বাংলাদেশের পরিবর্তিত আবহাওয়ায় এটি বেশ ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে। দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে দুম্বা পালনের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সেবা দিয়ে যাচ্ছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
এস এম/ ১৮ মে ২০২৬









