ফরিদপুর

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত ট্রাকের পেছনে ধাক্কা, চালক-হেলপারসহ নি*হত ২

ফরিদপুর, ১৮ মে – ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ভোররাতে অসতর্কতার জেরে আবার এক ভয়ংকর সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এক্সপ্রেসওয়ের আতাদি ফ্লাইওভার এলাকায় চলন্ত একটি ট্রাকের পেছনে দ্রুতগতির আরেকটি ট্রাকের প্রচণ্ড ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ২ জন নিহত হয়েছেন। ঘাতক ট্রাকটির সামনের অংশ এতটাই দুমড়েমুচড়ে গেছে যে, ভেতরে থাকা আরোহীদের বাঁচানোর কোনো সুযোগই ছিল না।

সোমবার (১৮ মে) ভোররাত ৫টার দিকে এই মর্মান্তিক ও রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ভোররাতের দিকে ঢাকাগামী একটি ট্রাক মহাসড়ক দিয়ে গাছের চারা বোঝাই করে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই আতাদি ফ্লাইওভার এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির মাছবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চলন্ত গাছের চারা বোঝাই ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা মারে।

ধাক্কার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, মাছবাহী ট্রাকটির কেবিনটি মুহূর্তের মধ্যে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। এতে ট্রাকটির ভেতরে থাকা দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় মারা যান।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মো. সোহেল খান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “নিহতদের নাম-পরিচয় এখনো সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকের ধরন এবং ভেতরের পরিস্থিতি দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিহত দুজন ওই মাছবাহী ট্রাকের চালক এবং হেলপার (সহকারী) ছিলেন।”

হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে বর্তমানে থানায় এনে রেখেছে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় জড়িত ও ক্ষতিগ্রস্ত দুটি ট্রাককেই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এক্সপ্রেসওয়েতে ভোররাতের দিকে চালকদের ক্লান্তি ও অতিরিক্ত গতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এক্সপ্রেসওয়েগুলোতে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং বিশেষ করে শেষ রাতে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি না করা গেলে এমন অকাল মৃত্যু থামানো কঠিন বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয় ও নিয়মিত যাতায়াতকারী চালকেরা।

এনএন/ ১৮ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language