তনু হত্যা মামলায় নতুন মোড়! পোশাকে মিলল ৪ জনের ডিএনএ নমুনা

কুমিল্লা, ১৮ মে – দীর্ঘ এক দশক ধরে দেশের আপামর মানুষের হৃদয়ে ক্ষত হয়ে থাকা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় এক চাঞ্চল্যকর নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তনুর শরীরে ও পোশাকে তিন পুরুষের শুক্রাণুর (Sperm) পাশাপাশি এবার আরও একজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার এই সর্বশেষ রিপোর্টে সন্দেহভাজনের তালিকায় এখন যুক্ত হলো নতুন আরেকজন, অর্থাৎ মোট ৪ জন।
রবিবার (১৭ মে) রাতে গণমাধ্যমকে এই বড় অগ্রগতির খবর নিশ্চিত করেছেন মামলাটির বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (PBI) রাজধানীর কল্যাণপুরের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, কয়েক মাস আগে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মামলার পূর্ববর্তী তদন্তকারী সংস্থা সিআইডিতে (CID) একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তনুর কাপড়ে পাওয়া ডিএনএ নমুনাগুলোর সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত বিবরণ জানতেই মূলত এই চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
এর জবাবে প্রায় এক মাস আগে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ পিবিআইকে আনুষ্ঠানিক ল্যাব রিপোর্ট পাঠায়। সেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৭ সালেই ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তনুর পোশাকে ৩ জন অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের শুক্রাণুর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল। নতুন করে করা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে ওই পোশাকেই চতুর্থ আরেকজন ব্যক্তির রক্তের নমুনা শনাক্ত হয়েছে, যা আগের তিনজনের ডিএনএ-এর সাথে মেলেনি।
তদন্ত কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেন, “নতুন করে আরও একজনের রক্তের নমুনা মেলায় এখন আমাদের সন্দেহভাজনের সংখ্যা চারজনে দাঁড়িয়েছে। মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজন খুনিদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের টিম কাজ করছে।”
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং থিয়েটার কর্মী সোহাগী জাহান তনুর হত্যাকাণ্ড সারা বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের (Cantonment) ভেতরের একটি কালভার্টের পাশের জঙ্গল থেকে তনুর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর দেশের চিকিৎসকদের দিয়ে দুই দফায় ময়নাতদন্ত করা হলেও, এক অদৃশ্য কারণে তনুর মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ বা ধর্ষণের বিষয়টি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি। যা নিয়ে তৎকালীন সময়ে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।
দীর্ঘ ১০ বছর ধরে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার, খুনিদের শনাক্তকরণ এবং রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়ে আসছে তনুর পরিবার, সহপাঠী ও দেশের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। সেনানিবাসের মতো একটি সুরক্ষিত এলাকায় এই নির্মম অপরাধ ঘটার পরও দীর্ঘদিন ধরে মামলার কোনো কূল-কিনারা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন নেটিজেনরা। এবার পিবিআই-এর হাতে আসা এই ৪ জনের সুনির্দিষ্ট ডিএনএ প্রোফাইল খুনিদের মুখোশ উন্মোচন করতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এনএন/ ১৮ মে ২০২৬









