জাতীয়

দেশে হামের ভয়াবহ রূপ: গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

ঢাকা, ১৭ মে – দেশজুড়ে ডেঙ্গু বা করোনার মতো মহামারি নিয়ে আলোচনার মাঝেই নীরবে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে আরেকটি ঘাতক ব্যাধি—হাম। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর নির্মম মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন মারা গেছে উপসর্গ নিয়ে এবং ১ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। একই সময়ে নতুন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৫১৭ জন।

রোববার (১৭ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানা গেছে। হঠাৎ করেই শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে অভিভাবক মহলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি জটিল। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ ১৭ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত—মাত্র দুই মাসে সারা দেশে হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৫৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এই মৃত্যুর পরিসংখ্যানকে দুটি ভাগে দেখিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর:

নিশ্চিত হামে মৃত্যু: ল্যাব টেস্টে প্রমাণিত হয়ে মারা গেছে ৭৫ জন শিশু।

উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু: হামের স্পষ্ট লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে আরও ৩৮৪ জন শিশু।

একই সময়ে দেশজুড়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৭৬৭ জন। তবে সবচেয়ে ভয়ংকর তথ্য হলো, হামের উপসর্গ নিয়ে এই দুই মাসে হাসপাতালে ছুটে এসেছে ৫৭ হাজার ৮৪৬ জন শিশু। সব মিলিয়ে আক্রান্ত ও উপসর্গের সংখ্যা ৬৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় ঢাকা বিভাগে এই ভাইরাসের তাণ্ডব সবচেয়ে বেশি। ঢাকার হাসপাতালগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে আক্রান্ত শিশুর ভিড়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেকই ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এখানে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ২০০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৫৬৫ জনে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং টিকাদানের ক্ষেত্রে অসচেতনতার কারণেই ঢাকা বিভাগে এই রোগের প্রকোপ জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।

লক্ষণ ও করণীয়:

  • শিশুর তীব্র জ্বর, শরীরজুড়ে লালচে র‍্যাশ বা দানা ওঠা, চোখ লাল হওয়া এবং সর্দি-কাশি হলে তা হামের লক্ষণ হতে পারে।
  • কোনো অবস্থাতেই এটিকে সাধারণ অ্যালার্জি ভেবে ঘরে বসিয়ে রাখা যাবে না।
  • দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং আক্রান্ত শিশুকে আইসোলেশনে (আলাদা) রাখতে হবে।

এনএন/ ১৭ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language