শিক্ষাব্যবস্থায় ঐতিহাসিক বদল: ভারতে নবম-দশম শ্রেণিতে বাধ্যতামূলক হলো ৩টি ভাষা

নয়াদিল্লি, ১৬ মে – ভারতের স্কুল শিক্ষাব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী ও আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিল দেশটির কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (CBSE)। এবার থেকে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি নয়, বরং তিনটি ভাষা (Three Languages) পড়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে গত ১৫ মে ২০২৬ তারিখে জারি করা এক বিশেষ সার্কুলারে স্পষ্ট জানিয়েছে বোর্ড। সিবিএসই-র এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দিনগুলোতে স্কুলপড়ুয়াদের পড়াশোনার রুটিনে এক বিশাল রদবদল আসতে চলেছে।
সিবিএসই-র নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নবম ও দশম শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীর জন্য তিনটি ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। তবে এখানে একটি বড় শর্ত জুড়ে দিয়েছে বোর্ড। এই তিনটি ভাষার মধ্যে কমপক্ষে দুটি ভাষা অবশ্যই ভারতের নিজস্ব মাতৃভাষা বা অনুমোদিত আঞ্চলিক ভাষা হতে হবে।
বোর্ড জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য সদ্য প্রকাশিত ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্স অ্যান্ড ট্রেইনিং’ (NCERT)-এর নবম ও দশম শ্রেণির নতুন সিলেবাস পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পরই এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই ভাষানীতি বা ল্যাঙ্গুয়েজ পলিসি কার্যকর হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থীর মনেই প্রশ্ন জেগেছে—তাহলে কি ফ্রেঞ্চ, জার্মান বা স্প্যানিশের মতো বিদেশি ভাষা আর শেখা যাবে না? সিবিএসই জানিয়েছে, সুযোগ অবশ্যই থাকছে, তবে তা কঠোর নিয়ম মেনে।
কোনো শিক্ষার্থী যদি বিদেশি ভাষা পড়তে চায়, তবে সেটিকে প্রধান তিনটি ভাষার একটি হিসেবে নিতে পারবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে বাকি দুটি ভাষা অবশ্যই ভারতীয় আঞ্চলিক ভাষা হতে হবে। এছাড়া কোনো শিক্ষার্থী চাইলে প্রধান তিনটি ভাষার বাইরে অতিরিক্ত ‘চতুর্থ ভাষা’ (Fourth Language) হিসেবেও যেকোনো বিদেশি ভাষা বেছে নিতে পারবে।
ভারতের স্কুলগুলোতে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকেই বর্তমান শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। তাই মাঝপথে এমন বড় ঘোষণায় যাতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক বা স্কুলগুলোর ওপর হঠাৎ কোনো বাড়তি মানসিক চাপ না পড়ে, সেজন্য সিবিএসই এক বিশেষ কৌশল নিয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, নতুন এই নিয়ম একবারে চাপিয়ে না দিয়ে ধাপে ধাপে (Phase-wise) পরিবর্তনের পদ্ধতি অনুসরণ করে ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে।
একই সাথে সিবিএসই-র আওতাধীন দেশের সকল সংযুক্ত স্কুলকে ভাষা শিক্ষার এই নতুন পাঠ্যক্রম, শিক্ষার্থীদের ভাষাভিত্তিক দক্ষতা ও শেখার ফলাফল ভালোভাবে পর্যালোচনা করে দ্রুত নিজেদের প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে স্কুলপড়ুয়াদের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন দেশটির শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
এনএন/ ১৬ মে ২০২৬









