জাতীয়

স্থানীয় নির্বাচনে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: সারজিস আলম

রাজশাহী, ১৬ মে – জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, আমরা জাতীয় নির্বাচনে ছাড় দিয়েছি তবে স্থানীয় নির্বাচনে ছেড়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শনিবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে রাজশাহীতে এই বিভাগীয় সমাবেশের ডাক দিয়েছিল ১১ দলীয় ঐক্য। সমাবেশে সারজিস আলম বলেন, আমরা ভেবেছিলাম যারা গত ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারী সরকারের জুলুমের শিকার হয়েছে তারা অন্তত শিক্ষা নেবে।

কিন্তু অভ্যুত্থানের পর হাজারো মানুষের জীবনের বিনিময়ে যারা ক্ষমতায় এল, তারা তিন মাস না যেতেই প্রমাণ করল যে ক্ষমতার চেয়ে তাদের কাছে দেশ বড় নয়। তারা ধাপে ধাপে জনগণের সাথে প্রতারণা শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, তারা ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতায় গেলেও ভুলে গেছে যে ৭০ শতাংশ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছিল।

বিএনপির নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানুষ তারেক রহমানের মুখ দেখে নয় বরং জিয়াউর রহমানের ধানের শীষ এবং খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব দেখে ভোট দিয়েছে। তারেক রহমান যদি পুনরায় ভুল করেন বা জনগণের সাথে প্রতারণা করেন তবে বিএনপি রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

তিনি অভিযোগ করেন যে আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিও এখন দলীয় লোক দিয়ে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। সীমান্ত হত্যার প্রসঙ্গ টেনে এনসিপি নেতা বলেন, গত এক সপ্তাহে সীমান্তে আরও তিনজন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো শক্ত বক্তব্য দেখা যায়নি।

কোনো রাষ্ট্রের কাছে সার্বভৌমত্ব বা সম্মান বন্ধক দিয়ে রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এছাড়া তিনি নতুন করে চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন। তিনি প্রশ্ন করেন যে রাষ্ট্র কি শুধু একটি দলের জন্য নাকি পুরো বাংলাদেশের জন্য।

সারজিস আলম আরও বলেন, কেউ যদি ভোটের অধিকার চুরি করতে চায় বা ব্যালট বাক্সে হামলা করতে চায় তবে সেই ভোট বয়কট করার সুযোগ নেই। বরং হয় ভোট বন্ধ হবে না হয় অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে।

খাল খনন কর্মসূচির প্রশংসা করলেও তিনি পদ্মায় পানির অভাবের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং বলেন যে নদীতে পানি না থাকলে খাল খনন করে কোনো লাভ হবে না। তিনি আধিপত্যবাদ রুখে দিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।

এস এম/ ১৬ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language