জাতীয়

“বিভ্রান্তির ফাঁদে পা দেবেন না,” মাঠপর্যায়ে গিয়ে চরম হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

চাঁদপুর, ১৬ মে – রাজনীতি ও উন্নয়ন এক সুতোয় গেঁথে আবারও মাঠে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একদল স্বার্থান্বেষী মহলের সমালোচনা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের কড়া জবাব দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রতিটি কর্মসূচি এক এক করে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এতে কোনো বাধা বরদাশত করা হবে না। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুলি গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন ঐতিহাসিক ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখনন কাজ উদ্বোধনের পর এক বিশাল জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

জনসভায় উপস্থিত হাজারো মানুষের করতালি আর স্লোগানের মাঝে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যখন দেশজুড়ে খাল কাটা শুরু করেছি, মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু করেছি, ইমাম-মোয়াজ্জিন সাহেবদের রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতা ও বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু করেছি—তখন কিছু সংখ্যক মানুষ বিভ্রান্তিকর কথা বলছে।”

তিনি সমালোচকদের মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “১২ তারিখের নির্বাচনে এ দেশের মানুষ সচেতন ছিল বলেই তারা বিএনপির এই জনকল্যাণমুখী কর্মসূচির পক্ষে রায় দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছে। আমরা মানুষের যে সমর্থন পেয়েছি, তার মর্যাদা রক্ষা করে এক এক করে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।”

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “এখন যে কাজগুলোর কথা বললাম, এগুলো যদি থেমে যায় তবে কার ক্ষতি হবে? যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের, নাকি আপনাদের?” উপস্থিত হাজারো জনতা একস্বরে ‘আমাদের’ বলে উঠলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হ্যাঁ, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষেরই ক্ষতি হবে। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে যাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড কিংবা বেকারদের কর্মসংস্থানের কর্মসূচিতে কেউ বাধা দিতে না পারে।”

তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “এই কাজ যদি কেউ ভেস্তে দিতে চায়, তবে সরকারকে কিছু করা লাগবে না, বাংলাদেশের সচেতন জনগণই তাদের সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ভাষণে বিএনপির মূল রাজনৈতিক দর্শনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “বিএনপি সবসময় একটি কথাই বিশ্বাস করে—জনগণই হচ্ছে সকল রাজনৈতিক শক্তির উৎস। আর সেই জন্যই জনগণকে সাথে নিয়েই আমরা দেশ পুনর্গঠনের এই মহাযজ্ঞ শুরু করেছি। জনগণ যতক্ষণ সমর্থন দেবে, আমরা দেশের জন্য কাজ করে যাব, তার থেকে এক বিন্দুও এদিক-ওদিক হব না।”

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ দেশের মানুষ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। এখন সময় এসেছে দেশ গঠনের, দেশকে পুনর্গঠন করার। ১৯৭১ সালে আমরা যেভাবে সকলে মিলে প্রিয় মাতৃভূমিকে স্বাধীন করেছিলাম, ঠিক একইভাবে এবার সবাই মিলে একে একটি সমৃদ্ধ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব।”

চাঁদপুরের ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচি থেকে তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিককে বিভ্রান্তিকারীদের ফাঁদে পা না দিয়ে সজাগ ও সচেতন থাকার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

এনএন/ ১৬ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language