যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরদের মধ্যে রাসায়নিক নেশা বাড়ছে: গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য

ওয়াশিংটন, ১৬ মে – যুক্তরাষ্ট্রে কিশোর ও কিশোরীদের মধ্যে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের ঘ্রাণ নিয়ে নেশা করার এক বিপজ্জনক প্রবণতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশটির ৫ লাখেরও বেশি কিশোর এই ধরনের নেশায় জড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও ট্রেন্ড এই আসক্তি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে চিকিৎসায় ব্যবহৃত নাইট্রাস অক্সাইড বা হাসির গ্যাস এখন অনেক তরুণের কাছে বিনোদনের মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ এই গ্যাসের অপব্যবহার করেছে। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩৩ হাজার ৭০০ জন কিশোরের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ২.২ শতাংশ কিশোর গত এক বছরে অন্তত একবার এই পদ্ধতিতে নেশা করেছে।
এছাড়া ০.৭ শতাংশ কিশোর গত মাসেও এটি ব্যবহার করেছে এবং ০.৩ শতাংশ কিশোর এতে স্থায়ীভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এই প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। এই নেশায় সাধারণত আঠা, জুতার পালিশ, পেইন্ট থিনার, ক্লিনিং স্প্রে, পেট্রোল এবং হাসির গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
সহজলভ্য হওয়ায় অনেক কিশোর ও কিশোরী একে নিরাপদ মনে করলেও চিকিৎসকরা একে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে, স্বল্পমেয়াদে এই নেশার ফলে মাথা ঘোরা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, বমিভাব এবং অজ্ঞান হওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে এটি মস্তিষ্ক, স্নায়ু, যকৃত, কিডনি ও হৃদযন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। এমনকি প্রথমবারের ব্যবহারেই হার্ট অ্যাটাক বা শ্বাসকষ্টের কারণে মৃত্যু হতে পারে, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে সাডেন স্নিফিং ডেথ বলা হয়।
অভিভাবকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, সন্তানের পোশাকে রাসায়নিকের গন্ধ পাওয়া গেলে কিংবা অকারণে মাথাব্যথা ও অবসাদ লক্ষ্য করলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। সন্তানদের সাথে খোলামেলা আলোচনা ও পারিবারিক সচেতনতাই এই ঝুঁকি রোধের প্রধান উপায়।
এস এম/ ১৬ মে ২০২৬









