উত্তর আমেরিকা

রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযোগের পরিকল্পনা: কিউবায় বাড়ছে উত্তেজনা

হাভানা, ১৬ মে – কিউবার প্রাক্তন বিপ্লববাদী নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে দুই দশক আগে একটি মানবিক সহায়তা বহনকারী বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় অভিযোগ গঠনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর কিউবা জুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়া দেশটির জন্য ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে বড় ধরনের চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৯৪ বছর বয়সী প্রবীণ এই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হলে তা হবে কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর মার্কিন প্রশাসনের চাপ বৃদ্ধির আরেকটি বড় দৃষ্টান্ত।

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই কিউবার সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অদক্ষ আখ্যা দিয়ে সেখানে পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছে। এ বিষয়ে কিউবা সরকার সরাসরি কোনও মন্তব্য না করলেও ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং শক্তি প্রয়োগের হুমকির মুখেও কিউবা তার সমাজতান্ত্রিক উন্নয়নের পথে সার্বভৌম অবস্থান বজায় রাখবে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী,

  • হাভানার বাসিন্দারা মনে করছেন যে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মামলা হলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে।
  • কিউবান নাগরিকদের কাছে এটি জাতীয় মর্যাদার ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
  • হাভানার একজন স্কুলশিক্ষিকা সোনিয়া তোরেস জানান যে প্রয়োজনে তারা লাঠি এবং পাথর নিয়ে দেশকে রক্ষা করবেন।
  • ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে বিপ্লবের পর থেকেই কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৈরিতার শুরু।

চলতি বছরের শুরু থেকে ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার ওপর জ্বালানি অবরোধ এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় অনেক বিদেশি কোম্পানি দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। গবেষক পিটার কর্নব্লুহ এই ঘটনাকে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের চূড়ান্ত সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন।

তিনি মনে করেন, এই অভিযোগের মাধ্যমে রাউল কাস্ত্রোকে আটক করার মতো বড় কোনো পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে কিউবার আকাশসীমায় বিমান ভূপাতিত করার ঘটনার কেন্দ্রে রেখেই এই অভিযোগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যদিও রাউল কাস্ত্রো বর্তমানে কোনো সরকারি পদে নেই, তবুও তাকে কিউবান বিপ্লবের এক অবিচ্ছেদ্য প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

এস এম/ ১৬ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language