মধ্যপ্রাচ্য

অবশেষে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে রাজি ইসরায়েল-লেবানন

তেল আবিব, ১৬ মে – টানটান উত্তেজনা আর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে এলো এক বড় স্বস্তির খবর। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের জন্য বিস্তৃত আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। শুক্রবার (১৫ মে) স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে।

তবে এই আলোচনার টেবিলের বাইরে মাঠের চিত্র এখনো পুরোপুরি শান্ত নয়। কূটনীতির এই অগ্রগতির মধ্যেই লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তেল আবিবের দাবি—এই হামলা চলমান যুদ্ধবিরতির আওতাভুক্ত নয়।

রোববার (১৭ মে) চলতি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই ওয়াশিংটনে দুই দিনব্যাপী এক হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বসে ইসরায়েল এবং লেবানন সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, আলোচনায় বড় অগ্রগতির লক্ষ্যে চলমান এই যুদ্ধবিরতি আরও ৪৫ দিনের জন্য বাড়ানো হবে। একই সাথে সংকট সমাধানের জন্য একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে হোয়াইট হাউস:

২৯ মে: দুই দেশের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)।

২ ও ৩ জুন: একটি স্থায়ী রাজনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মধ্যস্থতায় মূল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

লেবাননের প্রতিনিধিদল এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং সামরিক আলোচনা শুরু হওয়া স্থায়ী স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে তাদের নাগরিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘স্বস্তির নিঃশ্বাস’ ফেলার সুযোগ দেবে।

লেবাননের ভেতর ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটির সরকার দীর্ঘদিন ধরেই হিমশিম খাচ্ছে। বৈরুতে এক অনুষ্ঠানে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম হিজবুল্লাহর নাম না নিয়ে এক প্রচ্ছন্ন তিরস্কারে বলেন, “আমাদের দেশ বিদেশি প্রকল্প বা স্বার্থে পরিচালিত এই ধরনের বেপরোয়া দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডে ইতিমধ্যে যথেষ্ট ভুগেছে। সর্বশেষ ঘটনাগুলো এমন এক যুদ্ধ ডেকে এনেছে যা আমরা নিজেরা বেছে নেইনি, বরং আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে ইতিমধ্যে লেবাননের ৬৮টি শহর ও গ্রাম দখল হয়ে গেছে।

চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালানোর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইসরায়েলের কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। তবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের স্থল অনুপ্রবেশ নিয়ে ওয়াশিংটন মৃদু উদ্বেগও প্রকাশ করেছে।

ওয়াশিংটনে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ইসরায়েলি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটিতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার। আলোচনা শেষে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, ইসরায়েলের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল অগ্রাধিকার। এই শান্তি প্রক্রিয়ায় অনেক উত্থান-পতন থাকবে, তবে এবার সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

এনএন/ ১৬ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language