জাতীয়

না-ফেরার দেশে সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা

ঢাকা, ১৬ মে – জাতীয় রাজনীতি ও দেশের শিল্প অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করে ওপারে চলে গেলেন সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী ‘একমি গ্রুপ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সিঙ্গাপুরের একটি আন্তর্জাতিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন তাঁর কন্যা তাসনিম সিনহা। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে মুন্সিগঞ্জসহ দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ছাত্র ইউনিয়ন থেকে একমি গ্রুপ ও দেশের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী: এক নজরে বর্ণাঢ্য জীবন

১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্ম নেওয়া মিজানুর রহমান সিনহার জীবন ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়:

  • শৈশব ও শিক্ষা: তাঁর শৈশব কাটে কলকাতায়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় স্নাতক (BCom) সম্পন্ন করেন।
  • রাজনীতির শুরু: তোলারাম কলেজে পড়ার সময় ছাত্র ইউনিয়নের প্যানেল থেকে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন।
  • চাকরি ও ব্যবসা: ১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংকে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও, ১৯৭৫ সালে বাবা হামিদুর রহমান সিনহার (একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা) মৃত্যুর পর পারিবারিক ব্যবসায় হাল ধরেন। ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি একমি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
  • বিএনপিতে যোগদান ও মন্ত্রিত্ব: ১৯৯০ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। মুন্সিগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হন এবং পরবর্তীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। এছাড়া দীর্ঘদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন তিনি।

রাজনীতি থেকে বিদায় ও ২০২৫ সালে আবারও প্রত্যাবর্তন

রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে সবশেষ ২০২৫ সালে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দল ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধে আবারও সক্রিয় হন এবং মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

চলতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপি থেকে তাঁকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে গুরুতর অসুস্থতার কারণে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হলে পরবর্তীতে চূড়ান্ত মনোনয়নে পরিবর্তন আনা হয়।

রাজনীতির বাইরেও মুন্সিগঞ্জের স্থানীয় সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও দানশীলতায় মিজানুর রহমান সিনহার অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর জন্মভূমিতে অবস্থিত সুদৃশ্য ও নান্দনিক বাড়ি ‘সিনহা হাউজ’ দীর্ঘদিন ধরে সর্বসাধারণের জন্য একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে উন্মুক্ত রয়েছে, যা তাঁর উদার মানসিকতার পরিচয় বহন করে।

তাঁর এই প্রয়াণে মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন এবং জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনসহ দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এনএন/ ১৬ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language