এবার কি হোয়াইটওয়াশ? পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ সিলেটের মাঠে নামছে অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ

সিলেট, ১৬ মে – বাংলাদেশ ক্রিকেটে এখন বসন্তের হাওয়া, বিশেষ করে সাদা পোশাকের আভিজাত্যের লড়াইয়ে। রক্ষণাত্মক ঘরানা থেকে বেরিয়ে আক্রমণাত্মক ও আকর্ষণীয় ক্রিকেট খেলার যে সাহসী পরিকল্পনা টিম বাংলাদেশ করেছে, সেখানে পাকিস্তান যেন হয়ে উঠেছে একদম জুতসই প্রতিপক্ষ। বাবর আজমের দলকে টানা তিন টেস্টে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে টাইগাররা। যার সবশেষ নজির মিরপুর টেস্টে ১০৪ রানের দাপুটে জয়। এবার লক্ষ্য একটাই—ইতিহাস গড়ে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করা!
আজ শনিবার (১৬ মে) চায়ের দেশ সিলেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। ম্যাচটি মাঠে গড়াবে সকাল ১০টায়।
অতীতে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে যেখানে বাংলাদেশ দল হুড়মুড় করে ভেঙে পড়তো, এবার সেখানে দেখা যাচ্ছে বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের গল্প। ড্রয়ের নিরাপদ ও চেনা পথে না হেঁটে জয়ের জন্য জানপ্রাণ লড়িয়ে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ। একসময়ের ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তানকে এখন আর বিন্দুমাত্র সমীহ বা ভয় পাচ্ছে না নাজমুল হোসেন শান্তর দল; বরং শতভাগ আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রতিপক্ষের দুর্বল জায়গায় আঘাত করছে তারা।
মিরপুরের সবুজাভ অথচ শেষ দিকে ধীরগতির উইকেটে বাংলাদেশের আসল শক্তি ছিল দল গঠনের অসামান্য ভারসাম্য। মিডল অর্ডারের ব্যাটিং দৃঢ়তার পাশাপাশি বোলিং আক্রমণ ছিল বিশ্বমানের।
সিলেট টেস্টেও বাংলাদেশের মূল শক্তির জায়গা:
পেস ব্যাটারি: নাহিদ রানার এক্সপ্রেস গতি আর বাউন্সের সাথে তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনের দুর্দান্ত সুইং।
স্পিন ঘূর্ণি: কন্ডিশন যেমনই হোক, এক স্পিনারে আটকে নেই দল। বাঁহাতি স্পিন জাদুকর তাইজুল ইসলামের সাথে অফস্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের যুগলবন্দি যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, পাকিস্তান দল যেন মাঠের ভেতরে-বাইরে সবখানেই ধুঁকছে। দল নির্বাচন করতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। নোমান আলি ও সাজিদ খানের মধ্যে কেবল একজনকে খেলানোর সুযোগ পাচ্ছে তারা। সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশের নাহিদ রানার মতো ১৪5+ কিমি গতির বোলারের কোনো জবাবই নেই পাকিস্তানি ব্যাটারদের কাছে।
পাকিস্তানের প্রধান উদ্বেগের কারণসমূহ:
ভঙ্গুর ব্যাটিং: বাবর আজম এই টেস্টে ফিরছেন ঠিকই, যা দলে কিছুটা মানসিক স্বস্তি দেবে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তার অফ-ফর্মের কারণে শুধু দলে ফেরাই যথেষ্ট নয়, তাকে বড় রানও করতে হবে।
ধারহীন বোলিং: একসময় বিশ্ব কাঁপানো পেস আক্রমণের ঐতিহ্যবাহী পাকিস্তান এখন প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার মতো ধার হারিয়ে ফেলেছে। প্রথম টেস্টের শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর তারা আর ম্যাচে ফিরতেই পারেনি।
সামনে পাকিস্তানের আরও পাঁচটি কঠিন অ্যাওয়ে (বিদেশের মাটিতে) টেস্ট ম্যাচ রয়েছে। ফলে এই সিরিজে ইতিবাচক কিছু পাওয়া তাদের অস্তিত্বের লড়াই। তবে ঘরের মাঠে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা বাংলাদেশ ছাড় দিতে নারাজ। টাইগারদের লক্ষ্য, এই ম্যাচ জিতে নিজেদের নতুন ‘আক্রমণাত্মক টেস্ট দর্শন’ বিশ্বের বড় বড় ক্রিকেট পরাশক্তিদের কাছে আরও একবার কড়া বার্তা হিসেবে পৌঁছে দেওয়া।
এনএন/ ১৬ মে ২০২৬









