আইন-আদালত

হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষ: যেকোনো দিন আসতে পারে রায়

ঢাকা, ১৪ মে – জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নির্বিচারে গুলি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী এবং জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ভাগ্য নির্ধারণ হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি এখন রায়ের অপেক্ষায় (CAV)। যেকোনো দিন আসতে পারে চূড়ান্ত ফয়সালা।

বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে যুক্তিতর্ক শেষ হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর সব অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম আদালতে জানান, ইনু কেবল ১৪ দলীয় জোটের শরিক ছিলেন না, বরং শেখ হাসিনা সরকারের প্রতিটি দমন-পীড়নের পরিকল্পনায় তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

১৯ জুলাই এবং ৪ আগস্ট শেখ হাসিনার সঙ্গে ইনুর কথোপকথন প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, এই ফোনালাপে ‘জঙ্গি কার্ড’ খেলা, কারফিউ জারি এবং কুষ্টিয়ায় পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার প্রমাণ রয়েছে।

মোট ৯ জন সাক্ষীর পাশাপাশি বিভিন্ন টেলিভিশন ফুটেজ এবং পত্রিকার কাটিং জমা দিয়ে ইনুর জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

অন্যদিকে, হাসানুল হক ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ ইনুর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, প্রসিকিউশন অভিযোগ প্রমাণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। জুলাই-আগস্টের সময় ইনু কোনো প্রশাসনিক বা সাংবিধানিক পদে ছিলেন না, তাই হত্যার দায় তার ওপর বর্তায় না।

আইনজীবী দাবি করেন, ফোনালাপে ইনু আসলে আন্দোলনকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং গুলি না চালাতে বলেছিলেন। এটি তার অপরাধ নয়, বরং তার ‘প্রধান ডিফেন্স’। আইনজীবীর মতে, এটি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঘায়েল করার একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।

গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিনসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট উত্তরা থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায় এই মামলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি প্রমাণিত হয় যে, রাজনৈতিক জোটের নেতা হিসেবে ইনু সরাসরি উসকানি বা নির্দেশ দিয়েছেন, তবে তা তার জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

এনএন/ ১৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language