চীন সফরে রক্ষণাত্মক অবস্থানে ট্রাম্প, শক্তিশালী অবস্থানে বেইজিং

বেইজিং, ১৪ মে – ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন বেইজিং সফর শুরু করছেন, তখন তার হাতে তাসের সংখ্যা খুবই সীমিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ ১৫ মাস আগে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে তিনি যে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছিলেন, বর্তমানে তার অনেকটাই বিলীন হয়ে গেছে। হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টারা বেইজিংকে শুল্কের চাপে নতি স্বীকার করানোর পরিকল্পনা করলেও বর্তমানে ওয়াশিংটনকে উল্টো রক্ষণাত্মক অবস্থানে দেখা যাচ্ছে।
চীনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত কঠোরভাবে বিশ্লেষণ করেছে। তারা ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতির চাপে জর্জরিত এক শক্তি হিসেবে দেখছে। বেইজিংয়ের বিশ্লেষকদের মতে, এবার ট্রাম্পই একটি বাণিজ্য চুক্তির প্রত্যাশায় চীনে এসেছেন, যেখানে শি জিনপিংয়ের কাছে এটি তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অর্থনৈতিক সূচকগুলোও ট্রাম্পের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। এপ্রিল মাসে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতির হার গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩.৮ শতাংশে পৌঁছেছে। ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাবে এমন প্রত্যাশা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সম্ভাবনা ক্ষীণ। অন্যদিকে ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের প্রভাবে মার্কিন অর্থনীতি এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সংকটের মুখে পড়েছে।
প্রযুক্তি খাতেও চীন এখন অভাবনীয় গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। শি জিনপিংয়ের মেড ইন চায়না ২০২৫ প্রকল্পের অধীনে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি ইতিমধ্যে টেসলাকে পেছনে ফেলে বিশ্ববাজারে দাপট দেখাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে চীনের বিশাল বিনিয়োগের বিপরীতে মার্কিন প্রশাসন এখনো পুরনো প্রযুক্তিতে আটকে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের আধিপত্যও ট্রাম্পের নীতির কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মার্কিন ঋণের বোঝা বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, যা শি জিনপিংকে ইউয়ানকে বৈশ্বিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ করে দিচ্ছে। বিশেষ করে পেট্রো ইউয়ান চালুর সম্ভাবনা এখন আগের চেয়ে অনেক উজ্জ্বল।
তবে চীনের অভ্যন্তরীণ সমস্যাও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দেশটির আবাসন সংকট এবং শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব বেইজিংয়ের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা সত্ত্বেও এপ্রিল মাসে চীনের রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ শতাংশ।
এই সফর থেকে ট্রাম্প হয়তো কিছু পণ্য বিক্রির মৌখিক প্রতিশ্রুতি পেতে পারেন, কিন্তু চীনকে নিজের ইচ্ছামতো পরিচালনা করার কৌশল বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সফল হওয়া কঠিন। ক্ষমতার ভারসাম্য এখন ক্রমশ বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকে আছে বলে মনে করছেন এশিয়া টাইমসের বিশ্লেষকরা।
এস এম/ ১৪ মে ২০২৬









