হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একচ্ছত্র আধিপত্য: জ্বালানি সংকটে তেহরানের সঙ্গে হাত মেলালো ইরাক ও পাকিস্তান!

তেহরান, ১৩ মে – বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কি তবে এখন শুধুই ইরানের ‘ব্যক্তিগত করিডর’? মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন নৌ-অবরোধ আর যুদ্ধের দামামার মধ্যেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও পোক্ত করতে ইরাক ও পাকিস্তানের সঙ্গে বিশেষ জ্বালানি পরিবহন চুক্তি করেছে ইরান। ৫টি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এখন থেকে ইরানের সবুজ সংকেত ছাড়া এই পথে জাহাজ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানি যখন প্রায় স্থবির, ঠিক তখনই তেহরানের সাথে সমঝোতায় পৌঁছেছে বাগদাদ ও ইসলামাবাদ।
সম্প্রতি ইরাকের ২০ লাখ ব্যারেল তেলবাহী দুটি বিশাল জাহাজ ইরানের সাথে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। ইরাকের অর্থনীতির ৯৫ শতাংশই তেলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় দেশটি যেকোনো মূল্যে এই সরবরাহ লাইন সচল রাখতে চায়।
তীব্র জ্বালানি সংকটে থাকা পাকিস্তানও একই পথে হেঁটেছে। কাতারের এলএনজি বহনকারী দুটি জাহাজ ইরানের সাথে সমন্বয় করে করাচির পথে রওনা দিয়েছে। যুদ্ধের আগে পাকিস্তান মাসে ১০টি কার্গো পেলেও বর্তমানে সরবরাহ প্রায় বন্ধ ছিল।
অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের বিশ্লেষক ক্লদিও স্টয়ারের মতে, “হরমুজ আর কোনো নিরপেক্ষ নৌপথ নয়; এটি এখন ইরানের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত করিডরে পরিণত হয়েছে।” বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এখন প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ না করে সেখানে ‘প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ’ করার কৌশল নিয়েছে। অর্থাৎ, যারা তেহরানের শর্ত মানবে, কেবল তারাই এই পথ ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা শিউরে ওঠার মতো। সংঘাতের আগে মাসে প্রায় ৩,০০০ জাহাজ চলাচল করলেও এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ৫ শতাংশে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এছাড়া এশিয়া ও ইউরোপে এলএনজির দাম বেড়েছে ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ।
ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধ শেষ হলেও তারা হরমুজ প্রণালির এই নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না। তারা ক্ষতিপূরণ দাবি করার পাশাপাশি জব্দ করা সম্পদ ফেরত এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্ত দিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এসব দাবিকে ‘অর্থহীন’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরাক বা পাকিস্তান সরাসরি অর্থ না দিলেও এই ধরনের ‘সমন্বয়’ আন্তর্জাতিক নৌ-আইন ও নিরাপত্তার জন্য একটি নতুন ঝুঁকি। যদি আরও দেশ এই পথে হাঁটে, তবে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানের দীর্ঘমেয়াদি আধিপত্য বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় ধরণের চাপ তৈরি করবে।
এনএন/ ১৩ মে ২০২৬









