উত্তর আমেরিকা

ইরান যুদ্ধ চলাকালীনই বেইজিংয়ে ট্রাম্প! শি জিনপিংয়ের সাথে মহাবৈঠক

বেইজিং, ১৩ মে – একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে রণদামামা, অন্যদিকে বেইজিংয়ের রেড কার্পেট। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের বহুল প্রতীক্ষিত চীন সফর শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ মে) তিনি চীনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং আজ বুধবার (১৩ মে) থেকে শুরু হচ্ছে তার তিন দিনব্যাপী এই হাই-ভোল্টেজ রাষ্ট্রীয় সফর।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের কারণে এই সফরটি বেশ কয়েকবার পিছিয়ে গিয়েছিল। ধারণা করা হয়েছিল, যুদ্ধের দামামা থামলেই হয়তো ট্রাম্প বেইজিংয়ের পথে পা বাড়াবেন। কিন্তু যুদ্ধ এখনও চলমান। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্পের চীন সফরকে ‘অস্বাভাবিক’ ও ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

এশিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং জো বাইডেনের সাবেক চীন বিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা কুর্ট কাম্পবেল এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন। তার মতে, চীনের অন্যতম মিত্র এবং বাণিজ্যিক অংশীদার ইরানের ওপর গত ৪০ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বোমাবর্ষণ করছে। এমনকি ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধও বহাল রেখেছে ওয়াশিংটন। এমন পরিস্থিতিতে চীন ট্রাম্পকে স্বাগত জানানোয় অবাক হয়েছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

কাম্পবেল মনে করেন, ট্রাম্প এবং শি জিনপিংয়ের এই বৈঠক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে স্বার্থের মিল রয়েছে। এই সফরটি মূলত দুই পরাশক্তির মধ্যকার নড়বড়ে সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল।

কী হতে পারে বৈঠকের মূল এজেন্ডা?
১. ইরান সংকট: নিজের মিত্র দেশের ওপর মার্কিন হামলা নিয়ে শি জিনপিং নিশ্চিতভাবেই ট্রাম্পের সাথে কঠিন আলোচনা করবেন।

২. বাণিজ্যিক স্বার্থ: দুই দেশের বাণিজ্যিক টানাপোড়েন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

৩. নৌ-অবরোধ: হরমুজ প্রণালি এবং ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ নিয়ে বেইজিং তাদের উদ্বেগ জানাতে পারে।

বিশ্বের দুই প্রধান অর্থনীতির দেশের প্রধানরা যখন যুদ্ধের ময়দান একপাশে রেখে টেবিলে বসছেন, তখন বুঝতে হবে পর্দার আড়ালে বড় কোনো সমঝোতা বা চুক্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই সফরের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনের বিশ্ব অর্থনীতি এবং তেলের বাজারের ভবিষ্যৎ।

এনএন/ ১৩ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language